গুজব ছড়ানোর ৬টি কৌশল এবং সেগুলো যাচাইয়ের সহজ পদ্ধতি

English

মিথ্যা বা বিকৃত (ম্যানিপুলেটেড) ছবি উন্মোচন করা কঠিন কিছু নয়। এজন্য কিছু টুলের ব্যবহার এবং কৌশল জানা থাকতে হয়।

জিআইজেএন এর এই টিউটোরিয়ালে গুজব বা ভুয়া খবর ছড়ানোর ছয়টি পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হবে এবং ধাপে ধাপে সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হবে:

১. ছবিতে কারসাজি — গুগল রিভার্স সার্চ এর মত টুল ব্যবহার করে সহজে ছবি যাচাই।
২.

সাক্ষাৎকার গ্রহণের কৌশল

English

আন্তর্জাতিক প্রেস ইনস্টিটিউট থেকে প্রকাশিত ’রিপোর্টার্স গাইড টু দ্যা মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস: কাভারিং ডেভেলপমেন্ট কমিটমেন্টস ফর ২০১৫ এন্ড বিয়োন্ড’ ধারাবাহিকের ১৪তম পর্ব থেকে এটি নিয়েছে জিআইজেএন।

সাংবাদিক হিসেবে আমাদের তথ্য সংগ্রহ করতে হয়; বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে হয়; এবং ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ পেতে সেই তথ্যের স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দিতে হয়। আর এই কাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার। মূলত “কে, কি, কোথায়, কিভাবে, কখন এবং কেন”- সাংবাদিকতার এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উপর ভিত্তি করে তথ্যকে আরও সম্প্রসারিত করার জন্য, আমরা সাক্ষাৎকার ব্যবহার করি। স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, রাজনীতি কিংবা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি)- তা সে যে বিটই কাভার করি না কেন, সাক্ষাৎকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।  শুধু বিশেষজ্ঞ নয়, ক্ষতিগ্রস্তদের কন্ঠস্বর তুলে ধরার অন্যতম পন্থাও এই সাক্ষাৎকার; বিশেষ করে দারিদ্র্য নিরসন, দুর্নীতি, লিঙ্গ সমতা, পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যের মত বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে। যাদের কথা কেউ শোনেনি, সেইসব দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা, বৃহত্তর গোষ্ঠীর সামনে আসে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, অনেক সাংবাদিক মনে করেন, সাক্ষাৎকার কেবলমাত্র প্রশ্ন জিজ্ঞাসা এবং জবাব নেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জনে আমরা খুব একটা মনোযোগ দেই না। কিন্তু ভালো সাংবাদিক হতে হলে, সাক্ষাৎকার গ্রহণের দক্ষতাকে শিল্পের পর্যায়ে নিতে হবে। আর তা তৈরি হয় অনুশীলন এবং নিচের সুনির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে:
১। প্রস্তুতি, প্রস্তুতি, প্রস্তুতি
সাক্ষাৎকার থেকে পাওয়া তথ্যের গুণগত মান অনেকটাই নির্ভর করে, আমরা কতটা প্রস্তুতি নিচ্ছি তার উপর। যে বিষয়টি কাভার করছেন, তার প্রেক্ষাপট এবং অন্ততঃপক্ষে সাক্ষাৎকারদাতা সম্পর্কে মৌলিক তথ্য জানা থাকা জরুরী। আর এখানেই আসে, আপনার স্টেশন বা পত্রিকার পুরোনো ফাইল, ইন্টারনেট এবং লাইব্রেরি ব্যবহারের বিষয়টি।

হাতের কাছে একটি প্রশ্নের তালিকা তৈরি রাখুন, অথবা অন্তত কিছু বুলেট পয়েন্ট, যা আপনি জিজ্ঞেস করতে চান। কিন্তু নিজেকে শুধু সেই তালিকায় আটকে রাখবেন না। তাহলে আপনি সাক্ষাৎকার গ্রহনের পরবর্তী নিয়মটি ভঙ্গ করবেন।
২। শুনুন, শুনুন এবং শুনুন
সাক্ষাৎকার গ্রহনের সময় সক্রিয় ও মনোযোগী শ্রোতা হয়ে উঠুন। শুধু প্রশ্ন তালিকার দিকে তাকিয়ে থাকলে, হয়ত এমন কোন বক্তব্য আপনার কান এড়িয়ে যাবে, যে বিষয়ে আপনি ফলো-আপ প্রশ্ন করতে চেয়েছিলেন, অথচ সাক্ষাৎকারদাতা এরইমধ্যে তা বলে ফেলেছেন।

বিশেষ করে যখন সাধারণ মানুষের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন, তখন তাদের দিকে পুরোপুরি মনোযোগ দিন। প্রায়ই তারা নিজেদের কষ্টের কথা বলেন- তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন, ভদ্রতা, সহানুভূতি ও সক্রিয়তার সাথে তাদের কথা শুনুন।
৩। নিজেকে প্রশ্ন করুন: সাক্ষাৎকার থেকে কী বের করে আনতে চাই? আপনি কি একটি তাৎক্ষণিক মন্তব্য বা সাউন্ড-বাইট পেতে সাক্ষাৎকারটি নিচ্ছেন?

কোভিড-১৯: সাংবাদিকদের জন্য যত রকম অর্থসহায়তা

English

কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ে ভালো রিপোর্টিংকে উৎসাহিত করতে সাংবাদিকদের জন্য অনুদান নিয়ে এগিয়ে আসছে দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

আপনি কি কোভিড-১৯ কভার করার জন্য আরও রিসোর্স খুঁজছেন? তাহলে জিআইজেএন এর রিসোর্স সেন্টার থেকে ঘুরে আসতে পারেন।এর পাশাপাশি এই মহামারির কারণে যেসব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আর্থিক চাপে পড়েছে, তাদের জন্যও সাহায্য দিচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন।

এই ধরনের যত সুযোগ এখন পর্যন্ত এসেছে, তাদের একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে জিআইজেএন। নিচে পাওয়া যাবে তার বিবরণ।

এর বাইরেও বিভিন্ন ব্যক্তি ও সরকার থেকে সহায়তা তহবিলের ঘোষণা এসেছে। এগুলো সরাসরি গণমাধ্যমের কথা না বললেও সাংবাদিকেরা তাকে নিজেদের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন বেলআউট সম্পর্কে নিম্যান ল্যাবে প্রকাশিত এই নিবন্ধ এবং কানাডা সরকারের এই মিডিয়া ইনজেকশনটি দেখে নিতে পারেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রিল্যান্সাররাও এমন আর্থিক সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারে।

কিছু কিছু সুযোগের ক্ষেত্রে সময়সীমা সীমিত। আপনি যদি এমন কোনো সুযোগের কথা জানেন, আমাদের জানাতে পারেন, এই ইমেইলে hello@gijn.org।
কোভিড-১৯ রিপোর্টিং অনুদান
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি (গ্লোবাল)

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের জন্য একটি জরুরি তহবিল গঠন করেছে। যাঁরা নিজ নিজ এলাকা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর কোভিড-১৯-এর প্রভাব নিয়ে কাজ করতে চান, তাঁরা এই তহবিল পেতে পারেন।

প্রতিষ্ঠানটি অনুদানের আবেদন গ্রহণ করছে ধাপে ধাপে। একেক দফায় জমা পড়া আবেদন থেকে সেরা প্রস্তাব বাছাই করে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। তারপর আবার আবেদন সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তারা প্রস্তাবের গুণাগুণ বিবেচনা করে ১,০০০ থেকে ৮,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনুদান দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, “বিশ্বব্যাপী এই মহামারির প্রস্তুতি, প্রতিক্রিয়া এবং প্রভাবের ওপর প্রমাণনির্ভর সাংবাদিকতা” যাঁরা করতে চান, তাঁরাই অর্থসহায়তা পাবেন।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক তহবিল “বেশি জোর দিচ্ছে, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগে”। তারা আগ্রহী “আঞ্চলিক এবং এমনকি ক্ষুদ্র-অঞ্চলভিত্তিক (জেলা এমনকি তার চেয়েও ছোট পরিসরে কাজ করা গণমাধ্যম) বিতরণ মডেলে”। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, “কোভিড-১৯-এর কারণে যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে,” তারা সেই গল্পই দেখতে চায় বেশি করে। আরও তথ্যের জন্য তাদের ঘোষণা দেখুন।

লেখক, ফটোগ্রাফার, ভিডিওগ্রাফার, অডিও সাংবাদিক, কার্টোগ্রাফার, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং ডেটা ভিজুয়ালাইজেশন বিশেষজ্ঞরা এই তহবিলের জন্য আবেদন করতে পারেন।

পুলিৎজার সেন্টার (গ্লোবাল)

পুলিৎজার সেন্টার অন ক্রাইসিস রিপোর্টিং চালু করেছে করোনাভাইরাস নিউজ কোলাবরেশন চ্যালেঞ্জ। তাদের নতুন এই অনুদান, সাংবাদিক এবং নিউজরুমগুলোর মধ্যে সহযোগিতামূলক সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করছে। রাষ্ট্রীয় এবং জাতীয় সীমারেখার ভেতেরে ও বাইরে করোনাভাইরাস মহামারির খবর সংগ্রহকে বেগবান করতেই তাদের এই উদ্যোগ। এই সুযোগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশের সব স্বাধীন সাংবাদিক এবং নিউজরুমের জন্য উন্মুক্ত।

এই অনুদান পেতে হলে প্রতিবেদন তৈরি এবং প্রকাশের ক্ষেত্রে শক্তিশালী কোলাবরেশন বা সহযোগিতা কাঠামো থাকতে হবে। আবেদনের জন্য এর বাইরেও যা যা মাথায় রাখতে হবে:

করোনাভাইরাস সংকটের অন্তর্নিহিত সিস্টেমিক ইস্যুতে নজর দিন, যা নিয়ে খুব বেশি রিপোর্টিং হয়নি।
করোনাভাইরাস নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য ডেটাভিত্তিক এবং/অথবা বিষয়-নির্দিষ্ট পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
ক্ষমতাকে জবাবদিহি করার বিষয়টি রাখুন।

করোনাভাইরাস নিউজ কোলাবরেশন চ্যালেঞ্জের জন্য পুলিৎজার সেন্টার আবেদন জমা নিচ্ছে পর্যায়ক্রমিক ভিত্তিতে।

ইন্টারনিউজ (গ্লোবাল)

ইন্টারনিউজ গঠন করেছে ইনফরমেশন সেইভস লাইভস র‌্যাপিড রেসপন্স ফান্ড। সেই সব গণমাধ্যম, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি এই তহবিল থেকে সহায়তা পেতে আবেদন করতে পারেন; যাঁরা স্থানীয় ভাষায় কোভিড/করোনাভাইরাস মহামারি এবং তার প্রভাব সম্পর্কে তথ্য বা খবর জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চান। অনুদানের অঙ্ক হতে পারে ৫০০ থেকে ৫,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। এই টাকা খরচ করতে হবে “ এমন তথ্যের নির্মাণ, প্রযোজনা এবং প্রচারের জন্য, যা করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে এবং তাদের নিজের পরিবার ও সম্প্রদায়ের জন্য সুষ্ঠু সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে: বিষয় হতে পরে বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন, রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা, স্থানীয় স্বাস্থ্য নীতি ও পদ্ধতি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিদিনের দরকারি খবর ও তথ্য ইত্যাদি।”

এর পাশাপাশি ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি, রাশিয়ানসহ বিভিন্ন ভাষায় করোনাভাইরাস কাভার করার জন্য বিনা পয়সায় পরামর্শ এবং বিশেষজ্ঞ সহায়তাসহ অ্যাডভাইজরি তৈরিতেও ইন্টারনিউজ অতিরিক্ত বিনিয়োগ করবে। বিস্তারিত এখানে।

ফান্ডটি চালু করার পর থেকে এত বেশি আবেদন এসেছে যে, ইন্টারনিউজকে আপাতত আবেদন সংগ্রহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রথম দফায় যত আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলোর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে, সেরা প্রস্তাবগুলোকে তারা সহায়তা দেবে। পরবর্তীকালে কবে আবেদন করা যাবে, তাদের সাইটে জানিয়ে দেওয়া হবে।

ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স মিডিয়া ফাউন্ডেশন (গ্লোবাল)

আইডব্লিউএমএফের সাংবাদিকতা ত্রাণ তহবিল, এমন নারী সাংবাদিকদের জন্য যাঁরা চাকরি বা কাজ হারিয়ে গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছেন, এবং অপূরণীয় ক্ষতি এড়ানোর জন্য যাদের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। অনুরোধের ধরন অনুসারে এই তহবিল একেকজনকে সর্বোচ্চ ২০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনুদান প্রদান করবে। দ্রষ্টব্য: যাদের বেশি আর্থিক প্রয়োজন, তাদের কেস-টু-কেস ভিত্তিতে বিশেষ বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হবে।

উইমেন ফটোগ্রাফ (গ্লোবাল)

কোভিড-১৯ জরুরি তহবিল থেকে বিশ্বব্যাপী নন-বাইনারি এবং স্বাধীন নারী ফটোগ্রাফারদের জন্য একককালীন সহায়তা দিচ্ছে, উইমেন ফটোগ্রাফ। এই টাকা কোন কাজে খরচ করা যাবে, সে সম্পর্কে কোনো বিধিনিষেধ নেই। স্বাস্থ্যসেবা, শিশুযত্ন, বাসাভাড়া, পেশাদার ব্যয়—এমন যেকোনো কাজেই  ইত্যাদি। প্রথম দফা আবেদনের সময়সীমা ৩ এপ্রিল শেষ হয়েছে। দাতাদের কাছ থেকে তহবিল পেলে তারা আবার আবেদন সংগ্রহ শুরু করবে।

লেখকদের জন্য জরুরি সহায়তা তহবিল (গ্লোবাল)

অর্থসহায়তা কেবল তাঁদের জন্যই, যাঁরা বর্তমানে অসুস্থ বা কোনো অসুস্থ ব্যক্তির যত্ন নিতে হয় বলে কাজ করতে পারেন না। আমেরিকান সোসাইটি অব জার্নালিস্টস অ্যান্ড রাইটার্সের মতে, “আবেদনের জন্য লেখকদেরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসী হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তবে তাঁদের অবশ্যই ইংরেহি ভাষায় লেখা বই বা নিবন্ধ জমা দিতে হবে।”

ফটোগ্রাফার ফান্ড (গ্লোবাল)

ফটোগ্রাফার তহবিলটি গঠন করেছে ফরম্যাট। তাদের লক্ষ্য হলো, সেই সব স্বনিয়োজিত ফটোগ্রাফারের সহায়তা করা, যাঁরা কোভিড-১৯-এর কারণে আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। ফরম্যাট হলো একটি অনলাইন পোর্টফোলিও প্ল্যাটফর্ম, যেখানে পোর্টফোলিও তৈরির মাধ্যমে নিজেদের কাজ প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারেন ফটোগ্রাফাররা। এই তহবিল থেকে একেকজনকে ৫০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়।
সংবাদ প্রতিষ্ঠানের জন্য সহায়তা
ফেসবুক (গ্লোবাল)

সংবাদশিল্পকে বাঁচাতে ফেসবুক এরই মধ্যে ১০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে থেকে আড়াই কোটি ডলার খরচ করা স্থানীয় ছোট ছোট গণমাধ্যমের জন্য জরুরি সহায়তা হিসেবে, ফেসবুক জার্নালিজম প্রজেক্টের মাধ্যমে। আর বাকি সাড়ে সাত কোটি ডলার তারা খরচ করবে বিপণন কার্যক্রমে, যেন বিশ্বের সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে অর্থ পৌঁছাতে পারে।

কোভিড-১৯ কমিউনিটি নেটওয়ার্ক গ্র্যান্ট প্রোগ্রামের আওতায় তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ৫০টি স্থানীয় গণমাধ্যমকে সহায়তা দিয়েছে, প্রথম দফায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই দুই দেশের আরও ৪০০টি ক্ষুদ্র গণমাধ্যমকে সহায়তা দেওয়া হয়। তবে তৃতীয় রাউন্ড কবে আসবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এই তহবিলের আওতায় করোনাভাইরাসের খবর সংগ্রহ ও প্রকাশের জন্য ৫০০০ মার্কিন ডলার করে দেওয়া হয় গণমাধ্যমগুলোকে।

আগ্রহীদেরকে এই লিংকে গিয়ে ফেসবুক জার্নালিজম প্রজেক্ট নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করতে বলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে।

এর বাইরে, স্মল বিজনেস গ্র্যান্ট প্রোগ্রামের আওতায় আরও ১০ কোটি ডলার অনুদান দিচ্ছে ফেসবুক। এখান থেকে ৩০টি দেশের ৩০ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসা তাদের কাছ থেকে ছোট অনুদান বা বিজ্ঞাপন ক্রেডিট পাবে।

গুগল (গ্লোবাল)

স্থানীয় কমিউনিটি নিয়ে কাজ করছে, এমন ছোট ও মাঝারি নিউজরুমগুলোকে জরুরি অর্থসহায়তা দেওয়ার জন্য জার্নালিজম ইমার্জেন্সি রিলিফ ফান্ড গঠন করেছে গুগল। কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্পন্ন সাংবাদিকতা জারি রাখাই এই অনুদানের প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে তারা। অন্তত এক বছর ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং দুই থেকে এক শ জন পূর্ণকালীন কর্মী আছেন, এমন নিউজরুমগুলো এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবে।

করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে ভুয়া তথ্য ও গুজব মোকাবিলায় ফ্যাক্টচেকার এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৬৫ লাখ ডলার দেবে গুগল। সম্প্রতি তারা এই ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গুগল নিউজ ইনিশিয়েটিভ প্রথমে ফার্স্ট ড্রাফটকে সহায়তা করছে। তারা এরই মধ্যে কোভিড-১৯ নিয়ে সাংবাদিকদের জন্য একটি রিসোর্স হাব তৈরি করেছে, যেখানে প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ক্রাইসিস সিমুলেশন পর্যন্ত অনেক ধরনের রিসোর্স আছে।

মোবাইল সাংবাদিকতা গাইড: যেভাবে আপনিও হতে পারেন মোজো!

English
জিআইজেএনের মোজো ওয়ার্কিং কলামে মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির নানান পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আমাদের বিশেষজ্ঞ ইভো বুরাম অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক একজন পুরষ্কারজয়ী সাংবাদিক। টিভি প্রযোজক, লেখক, নির্দেশক এবং নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে তাঁর রয়েছে ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা। বুরাম জিআইজেএন সম্মেলনগুলোতে নিয়মিত বক্তা এবং তাঁর স্মার্টমোজো নামে একটি ওয়েবসাইট রয়েছে।

আইজেএশিয়া১৮ সম্মেলনে বুরাম উপস্থাপন করেন মোজো আনপ্যাকড – দ্য টোয়েন্টি মোস্ট আস্কড কোয়েশ্চেন।

মোজো ওয়ার্কিং: স্মার্টফোনে প্রতিবেদন তৈরি (পর্ব ১) এই কলামে রয়েছে স্টোরি পরিকল্পনা, কাঠামো, চরিত্র এবং দৃশ্যায়ন নিয়ে বেশ কিছু পরামর্শ।

মোজো ওয়ার্কিং: স্মার্টফোনে প্রতিবেদন তৈরি (পর্ব ২) এই কলামে বুরাম মোজো সরঞ্জাম, কাভারেজ এবং অডিও ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

জিআইজেসি১৭ তে তিনি গেরিলা মোজো উপস্থাপন করেন।

জিআইজেএন তাঁর পরামর্শমূলক কলামগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেছে এবং তার সংকলন রয়েছে এখানে। প্রথমেই থাকছে “দরকারি টুলস” কলামটি:

মোজো ওয়ার্কিং: মোবাইল সাংবাদিকতার জন্য দরকারি টুল

মোজো ওয়ার্কিং: স্মার্টফোনে অডিও রেকর্ড

মোজো ওয়ার্কিং: মোবাইল ফোনে সম্পাদনা                       

মোজো ওয়ার্কিং: দেখে শুনে কিনুন আপনার নতুন স্মার্টফোন

সামগ্রিক চিত্র পেতে দেখুন আইজেএশিয়া ১৬ তে ইভোর কর্মশালার সব পরামর্শ।
অন্যান্য উৎস
এই মোবাইল জার্নালিজম ম্যানুয়াল তৈরি করেছে কনরাড অ্যাডেনোয়ার স্টিফটুংয়ের এশিয়া মিডিয়া প্রোগ্রামের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এখানে পাবেন অ্যাপ, যন্ত্রপাতি, “লাইভ” এবং আরো অনেক পরামর্শ।

এর সাথে দেখে নিতে পারেন টুলসের লম্বা এই তালিকা, যা ইআইজে১৭ তে উপস্থাপন করেন মাইক রাইলি এবং ভিক্টর এরনান্দেজ।

আফ্রিকান ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০১৬ তে শেমাস রেনল্ডস উপস্থাপিত পরামর্শগুলোও দেখে নিতে পারেন। এখানে রয়েছে ভিডিও সাংবাদিকতা, অন্যান্য উৎস এবং টুইটারে কাদের ফলো করতে হবে সে ব্যাপারে তথ্য সহ বেশ কিছু পরামর্শ।

ফিনল্যান্ডের বৃহত্তম সংবাদপত্র হেলসিংগিন সানোমাত-এর ভিজুয়াল সাংবাদিক এমা-লিনা ওভাস্কাইনেন মোবাইলে ৯ ধরণের ভিজুয়াল স্টোরিটেলিং (বাংলায়) এর এই টিপস দিয়েছেন।

আরো দেখুন সৃজনশীল মোবাইল স্টোরিটেলিং এর জন্য ৫টি আইওএস অ্যাপ। এটি তৈরি করেছেন বিবিসি একাডেমির স্মার্টফোন প্রশিক্ষক মার্ক সেটল। প্রয়োজনীয় অ্যাপস এবং নতুন আবিষ্কার নিয়ে তাঁর লেখাটি ২০১৮ সালের মার্চে প্রকাশ করে জার্নালিজম.সিও.ইউকে। একটি সাক্ষাৎকারে আরো কী বলছেন সেটল পড়তে পারেন এখানে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে আইওএস ১২ এবং তার নতুন ফিচার নিয়ে বিবিসি একাডেমিতে আরেকটি সাক্ষাৎকার দেন সেটল। এই ফিচারগুলোর বেশিরভাগই সাংবাদিকদের কাজে লাগবে।

আইজেনেট যেসব টিপস প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ২০১৮ সালের কার্যকর তিনটি মোবাইল ভিডিও এডিটিং অ্যাপ এবং কিভাবে নতুন মাধ্যমে গবেষণা করবেন নব্য মোবাইল সাংবাদিক।

আরো দেখুন জার্নালিস্ট’স টুলবক্স , যেখানে পাবেন মোবাইল সাংবাদিকতার আরো অনেক রিসোর্স।

অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকলি কলেজের সাংবাদিকতার শিক্ষক কোরিন পজার লিখেছেন “মোবাইল সাংবাদিকতা শেখানোর এক বছরে, যে সাতটি বিষয় শিখেছি।”

মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ৩৬০ স্টোরি তৈরির উপায় লিখেছেন ভিআর/এআর স্টুডিও ভ্রাগমেন্টস এর সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্কাস বশ।

থমসন ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষক, মোবাইল সাংবাদিকতা বিশেষজ্ঞ গ্লেন মালক্যাহি তার পরামর্শ দিয়েছেন আট মিনিটের এই ভিডিওতে।

অনুসন্ধানী রিসোর্স

জিআইজেএন এর সদস্য হবেন যেভাবে

আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে অভিবাসন নিয়ে রিপোর্টিং: একটি সংশোধিত ও বর্ধিত জিআইজেএন গাইড

অনলাইন অ্যাডভান্সড সার্চ

মার্কিন নির্বাচন কাভার করবেন? সাংবাদিকদের জন্য দরকারি সব রিসোর্স এখানে পাবেন

নিখোঁজের খোঁজে: গুম, অপহরণ ও হারানো মানুষ নিয়ে অনুসন্ধানের গাইড

কোভিড-১৯: সাংবাদিকদের জন্য যত রকম অর্থসহায়তা

ফ্রিল্যান্স অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: জেনে নিন কীভাবে পিচ করবেন

কোভিড-১৯: যখন আতশি কাচের নিচে সরকারি কেনাকাটা

দেশ ধরে ধরে বিশ্বব্যাংকের কোভিড-১৯ অর্থায়ন ট্র্যাক করবেন যেভাবে

সুরক্ষা ও নিরাপত্তা

সরবরাহ চেইন অনুসন্ধানের যত রকম কৌশল

জলবায়ু সংকট: অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের জন্য আইডিয়া

তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগের যত রকম কৌশল

রিসার্চ ডেস্ক: ওয়েব্যাক মেশিনের রহস্য

টিপশীট: কীভাবে জানবেন বিমানটি কোথায় আছে?

প্লেনস্পটিং: আকাশের উড়োজাহাজ ট্র্যাক করবেন যেভাবে

ডাঙায় বসে সাগরে থাকা জাহাজ অনুসরণ করবেন যেভাবে

অনলাইনে অনুসন্ধানের যত টুল

ডিজিটাল নিরাপত্তা: সাংবাদিকদের যা যা জানা দরকার

হুইসেলব্লোয়িং: যারা গোপনে জানিয়ে দেন অনিয়মের খবর

জমির মালিকানা: রিপোর্ট আপনার পায়ের নিচেই!

জমির নথি থেকে যেভাবে দুর্নীতি উন্মোচন করলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা

জমির মালিকানা: জানা জরুরি, কিন্তু পাওয়া কঠিন

প্লেনস্পটিং: বিমানটি এখন কোথায় আছে?

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার যত ম্যানুয়াল

মোবাইল সাংবাদিকতা গাইড: যেভাবে আপনিও হতে পারেন মোজো!

গুজব ছড়ানোর ৬টি কৌশল এবং সেগুলো যাচাইয়ের সহজ পদ্ধতি

স্যাটেলাইট ছবি কোথায় পাবেন এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন?

সাক্ষাৎকার গ্রহণের কৌশল

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও তার মালিকদের কোথায় খুঁজবেন?

সাংবাদিকদের জন্য জরুরি সাহায্য

কোথায় পাবেন বিশেষজ্ঞ?

সাংবাদিকরা আইনি সুরক্ষা কোথায় পাবেন?

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কী?

আরো স্টোরি এখানে

GIJN বাংলা

জিআইজেএন বাংলা উদ্যোগটি জিআইজেএন এবং গণমাধ্যম উন্নয়ন সংস্থা এমআরডিআই-এর মধ্যে একটি অংশীদারত্ব। আমাদের উদ্দেশ্য, বাংলা ভাষায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সব কৌশল ও টুলের খবর, সাড়াজাগানো রিপোর্টের পেছনের গল্প, এবং ফেলোশিপ ও সুযোগের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরা। এককথায়, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সবচেয়ে উন্নত ধারার সঙ্গে বাংলা ভাষাভাষী সাংবাদিকদের পরিচয় করিয়ে দিতেই এই প্রচেষ্টা।