ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও তার মালিকদের কোথায় খুঁজবেন?

English

সরকারি রেকর্ডে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া যায়, তাকে নেহাত সামান্য বললেও কম হবে।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও, এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিকদের পরিচয় গোপন রাখা যায়। তথাকথিত শেল কোম্পানির মাধ্যমে প্রকৃত মালিক বা “বেনিফিশিয়াল ওনার”-দের আড়াল করা হয়।

ভাল খবর? ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক কে, তারা কী করেন এবং আরো অনেক তথ্য খুঁজে বের করার বেশ কিছু জায়গা আছে। যেমন:

ফ্রি ডেটাবেস
সাবস্ক্রিপশন ডেটাবেস
অফিসিয়াল রেকর্ড
কর্পোরেট ওয়েবসাইট
আদালতের নথি
ইন্টারনেট অনুসন্ধান
সামাজিক মাধ্যম

জিআইজেএনের এই রিসোর্স পেজে থাকছে, কোম্পানি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উৎসের বিবরণ।

জিআইজেএন এর ভিডিও সংগ্রহে, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ সম্পর্কে পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক ডেভিড কে জনস্টনের একটি আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 
বিনামূল্যের আন্তর্জাতিক রিসোর্স
কোম্পানিগুলোকে সরকারের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে যেসব প্রতিবেদন জমা দিতে হয়, তা সংগ্রহ করে বেশ কিছু নন-প্রফিট সংস্থা।

এখানে তাদের কয়েকটির বিবরণ:

OpenCorporates, বিশ্বের ১৫ কোটি কোম্পানির একটি উন্মুক্ত তথ্য ভান্ডার। এসব তথ্য আসে মূলত বিভিন্ন দেশের জাতীয় ব্যবসা নিবন্ধক (কোম্পানি রেজিস্ট্রি) থেকে। এই ডেটাবেস আপনাকে কোম্পানির নিবন্ধনের তারিখ, এর নিবন্ধিত ঠিকানা এবং পরিচালক-কর্মকর্তাদের নামের মতো তথ্য যোগান দিতে পারে। এটি এক কোম্পানীর সাথে আরেকটির সংযোগও দেখাতে পারে। কর্পোরেট ঘটনাবলীর এই ডেটাবেস প্রতিনিয়তই আরো বড় হচ্ছে। মিডিয়া কীভাবে ওপেনকর্পোরেটস ব্যবহার করে, তার আপডেট ও বিভিন্ন উদাহরনের জন্য এ সংক্রান্ত ব্লগের লেখা অনুসরণ করতে পারেন। সাংবাদিক, এনজিও, শিক্ষাবিদ এবং অন্যান্য সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানের ইউজাররা, বিনামূল্যে পাবলিক-বেনিফিট API key পেতে আবেদন করতে পারেন।

অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট (OCCRP) তৈরি করেছে ইনভেস্টিগেটিভ ড্যাশবোর্ড। এখানে রয়েছে গোটা বিশ্বের নানান উৎস থেকে সংগ্রহ করা লাখ লাখ প্রাসঙ্গিক তথ্য; যার একটি বড় অংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত। নথির জন্য আপনার অনুসন্ধান শুরু করতে পারেন এখান থেকে (বিস্তৃত অনুসন্ধানের জন্য ”অ্যাডভান্সড সার্চ” ক্লিক করুন)। এখানে ৩৮ টি দেশের কোম্পানি রেজিস্ট্রির একটি গাইড রয়েছে। বলতে পারেন, এটি ২২ কোটি ৬০ লাখ পাবলিক রেকর্ড এবং পানামা পেপারস ও উইকিলিক্সের স্টেট ডিপার্টমেন্ট কেবলসহ ফাঁস হওয়া সব ডেটাবেসের একটি বৃহত্তর ক্যাটালগ।

অবশ্য সব ডেটাবেসই (ফাঁস হওয়া তথ্যের ডেটাবেসসহ) যে সবার জন্য উন্মুক্ত, তা নয়। কিছু ডেটাবেসে প্রবেশের জন্য রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন করতে হয়। এর পাশাপাশি নির্দিষ্ট গবেষণার প্রয়োজনে বা ওসিসিআরপি সাবস্ক্রাইব করেছে এমন বাণিজ্যিক ডেটাবেস ব্যবহারের জন্য,  তাদের সাহায্য চাইতে পারেন সাংবাদিকরা। ওসিসিআরপির ডেটাবেস কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, এখানে তার একটি ভাল ভূমিকা আছে। ব্যবহার সম্পর্কে সাতটি পরামর্শ আছে জিআইজেএন-এর এই নিবন্ধেও। চাইলে পড়ে নিতে পারেন। যে ব্যক্তি বা কোম্পানী নিয়ে অনুসন্ধান করছেন, তার সম্পর্কে নতুন কোন তথ্য যোগ হলে, কীভাবে আপনি সঙ্গে সঙ্গে একটি অ্যালার্ট মেসেজ পাবেন, তাও এখানে বলা আছে। এছাড়া আরো অনুসন্ধান টিপস পেতে এই ইউজার ম্যানুয়াল পড়ুন এবং আরো গভীরে যেতে চাইলে ইলাস্টিক-এ প্রকাশিত পোস্টটি দেখুন।

ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস্ (আইসিআইজে) এর অফশোর লিক্স ডেটাবেসে, প্রায় ৭৮৫,০০০ অফশোর কোম্পানি ও ট্রাস্ট সম্পর্কে ফাঁস হওয়া তথ্য রয়েছে। ব্যক্তি, কোম্পানি, সংশ্লিষ্ট ঠিকানা, কর্মএলাকা এবং দেশের নাম দিয়ে এই ডেটাবেস সার্চ করা যায়। আইসিআইজে’র পানামা পেপারসের উপর ভিত্তি করে যত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তার আর্কাইভও পড়ার জন্য বেশ ভালো। আরো দেখুন, বিয়ন্ড পানামা: আনলকিং দ্য ওয়ার্ল্ডস সিক্রেসি জুরিসডিকশনস-এ। এখানে এইসব ডেটাবেস ব্যবহারের তিনটি টিপস আছে।

ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড তথ্যের জন্য ঘুরে আসতে পারেন বিশ্বব্যাংকের স্টার (চুরি হওয়া সম্পত্তির পুনরুদ্ধার) উদ্যোগ থেকে। এখানে, ২৩টি দেশের জন্য ব্যবসার প্রকৃত মালিক এবং তাদের সাথে সংশ্লিস্ট পক্ষগুলোকে খুঁজে বের করার উপায়সহ একটি বেনিফিসিয়াল ওনার নির্দেশিকা আছে।

Panjiva সাংবাদিকদের জন্য খুব কাজের এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য একটি আমদানি / রপ্তানি ডেটাবেস। এটি ব্যবহার করতে পয়সা লাগে না। মনে রাখবেন: ব্র্যান্ডগুলো চাইলে পাবলিক ডিসক্লোজার থেকে তাদের নাম সরিয়ে নিতে পারে। এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, দক্ষিণ আমেরিকাসহ কয়েকটি অঞ্চলের তথ্য রয়েছে।

দ্য ওপেন ওনারশিপ রেজিস্টার-এর মধ্যে আছে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক ও স্লোভাকিয়ার জাতীয় পর্যায়ের মালিকানা ডেটা। এটি প্রতি মাসে হালনাগাদ করা হয়। রেজিস্টারটি পরিচালনা করে কর্পোরেট মালিকানার তথ্য আরও উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করা এনজিও, ওপেন ওনারশিপ। মালিকানার তথ্য প্রকাশে আরও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশগুলোর অঙ্গীকার ও পদক্ষেপ বাস্তবায়ন নজরে রাখার জন্য একটি ম্যাপ প্রকাশ করেছে গ্রুপটি। এখানে উল্লেখ করা দেশগুলোর ক্ষেত্রে কখনো কখনো জাতীয় ডেটাবেসের লিংকও অন্তর্ভূক্ত থাকে, যেমন নাইজেরিয়া এক্সট্রাকটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ ট্রান্সপারেন্সি ইনিশিয়েটিভ-এর অডিট রিপোর্ট। ২০২৩ সালের মার্চে নাইজেরিয়া ও ফ্রান্সের আরও বাড়তি কিছু ডেটাও এখানে যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্যের বাণিজ্যিক উৎস
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত অনেক বেসরকারী ডেটাবেস রয়েছে। কিন্তু সেরা তথ্য পেতে চাইলে এদের বেশীরভাগই সাবস্ক্রাইব করতে হবে।

গণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির মাধ্যমে বিনামূল্যে এসব ডেটাবেস ব্যবহারের অনুমতি মিলতে পারে।

বাণিজ্যিক ডেটাবেস ব্যবহারের যে খরচ, তার চেয়ে লাভ বেশী। আর কিছু কোম্পানি সাংবাদিকদের কাছ থেকে কম টাকা নেয়।

এমন একটি পুরোনো ও প্রতিষ্ঠিত ডেটাবেস হলো, D&B Hoovers। এর ফ্রি ওয়েবসাইটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিদেশে অবস্থিত হাজার হাজার কোম্পানির সংক্ষিপ্ত বিবরণ আছে। বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় সাবস্ক্রিপশন সেবা Nexis-এ।

অন্যান্য প্রধান সাবস্ক্রিপশন বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে: Arachnys, ORBIS, Bureau van Dijk, Bloomberg, PrivCo (বেসরকারি মার্কিন কোম্পানির জন্য), Thomson Reuters, LexisNexis এবং DueDil।

এই তালিকায় নতুন সংযোজন সায়ারি (Sayari), একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা। তারা ২0১৮ সালে, এই বহু-মুখী ডেটাবেস চালু করে, যা “বেশী সংখ্যক উদীয়মান, ফ্রন্টিয়ার এবং অফশোর বাজারকে কাভার করে।” সায়ারি একটি সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক সেবা, খরচ মাসে ১০০০ ডলারের মত, কিন্তু ৩০ দিনের ফ্রি ট্রায়ালও পাওয়া যায় এবং কোম্পানিটি সাংবাদিকদের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।

তাদের ক্রেতা তালিকা দীর্ঘ। এখানে কী পাওয়া যায়, তা জানার একটি উপায় হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুল লাইব্রেরির ওয়েবসাইট।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি বিজনেস স্কুলের সংগ্রহ রীতিমত বিশাল। তাদের সংগ্রহ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। তবে তাদের অনলাইন ক্যাটালগ সম্ভাব্য টিপশিট হিসাবে কাজ করতে পারে।

সরকারি রেজিস্ট্রি

অনেক দেশের সরকারই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করেছে। কিন্তু শিথিল নীতিমালার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় সংক্ষিপ্ত এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য জমা দেয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি রেজিস্ট্রি কোথায় পাবেন, দেখুন এখানে:

Commercial-Register হলো সুইস গবেষকদের পরিচালনায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জাতীয় নিবন্ধনের একটি তালিকা।
আরেকটি তালিকা আছে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, কোম্পানি হাউসের।
ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস ইনস্টিটিউটের Knowledge guide to international company registration , দেশভিত্তিক কর্পোরেট নিবন্ধনের মূল বিষয়গুলোকে ব্যখ্যা করে।
কনসালট্যান্ট এবং আরবিএ ইনফরমেশন সার্ভিসের কর্ণধার ক্যারেন ব্লাকম্যানের তৈরি একটি কার্যকরী তালিকা আছে। সেখানে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে হালনাগাদ বিবরণ পাওয়া যায়।
ওপেন কর্পোরেটসের তালিকায় প্রতিষ্ঠানের “উন্মুক্ততা স্কোর” পাওয়া যায়
ইনভেস্টিগেটিভ ড্যাশবোর্ডে ৩৮টি দেশের নিবন্ধন লিঙ্ক আছে।
বিশ্বের পূঁজিবাজার নিয়ন্ত্রকদের আন্তর্জাতিক সংস্থা, দ্য ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ সিকিউরিটিজ কমিশনস্ (আইওএসসিও) এর তালিকায় বিভিন্ন দেশের সিকিউরিটিজ কমিশনের নাম আছে।

বৃহৎ অর্থনীতির জন্য রিসোর্স
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন তার EDGAR সিস্টেমে কর্পোরেট তথ্য ধারণ করে। পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানিগুলো তাদের ত্রৈমাসিক এবং বার্ষিক কর্পোরেট প্রতিবেদন ফাইলের জন্য অনলাইন সিস্টেমটি ব্যবহার করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত – চীন, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য অঞ্চলের নন-মার্কিন কোম্পানিগুলোকে – এখানে তাদের বৈশ্বিক কর্মকান্ড বাধ্যতামূলকভাবে ফাইল এবং রিপোর্ট করতে হয়। একারণেই বিশ্বের সাংবাদিকদের কাছে EDGAR হয়ে উঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাকগ্রাউন্ড তথ্যের প্রধান উৎস।

এখানে অনুসন্ধান শুরু করার জন্য সবচে ভালো জায়গা হল বার্ষিক প্রতিবেদন, ফর্ম 10- K, যেখানে কোম্পানির ইতিহাস, নিরীক্ষিত আর্থিক বিবৃতি, নির্বাহীদের বেতন-ভাতা, পণ্য ও সেবার বিবরণ, সংস্থার বার্ষিক পর্যালোচনা, তার কার্যক্রম এবং বাজার সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ আছে। ফর্ম 10- Q হলো ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন, যা কোম্পানির গত তিন মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবৃতি এবং কোম্পানির কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরে। 8- K রিপোর্টে দেউলিয়া অবস্থা, সম্পত্তি বিক্রি, নির্বাহীদের প্রস্থান এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য ঘটনার সম্পূরক তথ্য থাকে।

বিনিয়োগ কোম্পানীগুলোকেও EDGAR- এ ফাইলিং করতে হয়। এজন্য তারা  এসইসি ফর্ম 497 ব্যবহার করে। অতিরিক্ত তথ্য বিবৃতি (এসএআই) হলো মিউচুয়াল ফান্ডের প্রসপেক্টাসের একটি সম্পূরক নথি। এছাড়াও যেসব বিদেশী কোম্পানিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত প্রতিবেদন জমা দিতে হয়, এডগার সেইসব আন্তর্জাতিকভাবে নিবন্ধিত এবং রিপোর্টিং কোম্পানিগুলোর বছরভিত্তিক তালিকা রাখে। বিস্তারিত জানার জন্য, এডগার গাইডটি দেখুন।

অনেক ব্যবসা ডেলাওয়্যার রাজ্যে নিবিন্ধত। তাদের জন্য Delaware Division of Corporations দেখুন। এখানে বেনিফিসিয়াল ওনারদের কোনও তথ্য সংগ্রহ করা হয় না এবং “কোম্পানি খুলেছেন যে এজেন্ট” তারা মনোনীত পরিচালক হিসাবে কাজ করতে পারেন। (দেখুন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ব্যাখ্যা।)

National Association of Secretaries of State আপনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত রাজ্যের সাইটগুলোতে নিয়ে যাবে (একটি রাজ্য বেছে নেওয়ার পরে নীচে ছোট হরফে “অনলাইন ব্যবসা পরিষেবা” দেখুন)। উদাহরনস্বরুপ, সেখানে আপনি ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সার্চ এবং নিউইয়র্কের ব্যবসা ও কর্পোরেশন ডেটাবেসের মতো সব লিঙ্ক পাবেন। এই রাজ্য নিবন্ধকের লিংক থেকে কোম্পানির নিবন্ধন তারিখ, নিবন্ধিত ঠিকানা এবং পরিচালক ও কর্মকর্তাদের নাম পাওয়া যায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্পোরেট তথ্য অনুসন্ধানের আরো যেসব জায়গা আছে, তার মধ্যে এলএলসি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোঅর্ডিনেটেড লিগ্যাল টেক এর ডেটাবেস উল্লেখযোগ্য।

Panjiva সাংবাদিকদের জন্য খুব কাজের এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য একটি আমদানি / রপ্তানি ডেটাবেস। এটি ব্যবহার করতে পয়সা লাগে না। মনে রাখবেন: ব্র্যান্ডগুলো চাইলে পাবলিক ডিসক্লোজার থেকে তাদের নাম সরিয়ে নিতে পারে।

যুক্তরাজ্য

কোম্পানি হাউস বিনামূল্যে কোম্পানি সম্পর্কিত তথ্য দেয়, যার মধ্যে রয়েছে:

নিবন্ধিত ঠিকানা এবং নিবন্ধনের তারিখ
বর্তমান এবং পদত্যাগী কর্মকর্তাদের নাম
ডকুমেন্ট ইমেজ
বন্ধকী চার্জ তথ্য
কোম্পানির সাবেক নাম
দেউলিয়া অবস্থা

কানাডা

SEDAR , কানাডীয় পাবলিক কোম্পানি ফাইলিং সাইট, যা ১৯৯৭ সালের জানুয়ারীতে চালু হয়।

ফ্রান্স

Infogreffe – ফ্রান্সের বাণিজ্য এবং কোম্পানি নিবন্ধন এবং বাণিজ্যিক আদালত রেজিস্ট্রি। এটি বিনামূল্যে সেখানে নিবন্ধিত কোম্পানির প্রাথমিক তথ্য সরবরাহ করে; তবে ফরাসি ভাষায়।

জার্মানি

কোম্পানি রেজিস্টার-এ বিভিন্ন ভাষায়, বিনামূল্যে সার্চ করা যায়। তবে কিছু কিছু নথির জন্য টাকা লাগে।

চীন

চীনের জাতীয় এন্টারপ্রাইজ ক্রেডিট ইনফরমেশন পাবলিসিটি সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারেন এই লিংক থেকে। তবে ভাষা চীনা।

এখানে কী পাওয়া যায় তার বিবরণ আছে ’চায়না চেকআপ’-এ প্রকাশিত এই লেখায়।

উদাহরণস্বরুপ: উত্তর কোরিয়া কীভাবে তাদের সমরাস্ত্র উন্নয়ন করছে, তা নিয়ে একটি রিপোর্টে চীনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর এই রেকর্ড ব্যবহার করেছিল মার্কিন এনজিও C4ADS। এক পর্যায়ে, C4ADS উল্লেখ করেছে, “চীনা ব্যবসায় নিবন্ধন ফাইল থেকে পরিষ্কার বুঝা গিয়েছিল, দান্দং হংগ্রি দিয়ান্দং কোম্পানি লিমিটেড (অবরোধ উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়ার সাথে ব্যবসার জন্য অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান) প্রকৃত অর্থে আরো দুই চীনা কোম্পানি, ডিআইএইচআইডি এবং দান্দং কেহুয়া ইকোনোমিক ট্রেড কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে গঠিত প্রতিষ্ঠান।
অন্যান্য উৎস
অনলাইনে কর্পোরেট ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া সার্চ করে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।

এজন্য পেশাদার গবেষকদের কয়েকটি পরামর্শ আবারো দেয়া হল:

কোম্পানির কর্মকর্তা এবং পরিচালকদের খোঁজ করুন। ২০১৭ সালের জিআইজেএন সম্মেলনে উপস্থাপন করা এই প্রেজেন্টেশন জানাবে, কোনো প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মচারীদের কীভাবে খুঁজবেন।
গবেষণার জন্য লিঙ্কডইন ব্যবহার করুন। অ্যাডভান্সড সার্চ অপশনে গিয়ে চেষ্টা করুন। যেমন, প্রতিষ্ঠানের সাবেক এবং বর্তমান স্টাফদের কীভাবে খুঁজতে হয়, তাদের এরকম একটি অপশন আছে তাদের মেন্যুতে। কোম্পানি এবং শিল্প গোষ্ঠীর পেইজ ভালোভাবে খেয়াল করুন।
মিডিয়া রিপোর্ট খোঁজার সময় ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ক পত্রিকার দিকে মনোযোগ দিন। তাদের খুঁজে পেতে, Ulrich’s Periodicals Directory চেক করুন।
কোম্পানির ঠিকানা এবং ফোন নম্বর সন্ধান করুন। আরো তথ্যের জন্য ম্যাপ এবং স্ট্রিট ভিউ ব্যবহার করুন।
পেছনের দরজা দিয়ে তথ্য পাওয়ার আরেকটি উপায় হল কর্পোরেটদের দাতব্য কর্মকান্ড। কোম্পানিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হলে সিটিজেন অডিট, প্রো-পাবলিকার ননপ্রফিট এক্সপ্লোরার এবং গাইডষ্টার দেখুন। যুক্তরাজ্যের জন্য দেখুন ওপেন চ্যারিটি, চ্যারিটিবেস এবং সরকারের চ্যারিটি রেজিস্টার।
দূষণ বা মানব পাচারের মত বিষয় নিয়ে যেসব এনজিও কাজ করে, তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। দেখুন, তাদের কী তথ্য আছে। ভায়োলেশন ট্র্যাকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট অসদাচরনের উপর একটি সার্চ ইঞ্জিন।
কোম্পানির কার্যক্রমকে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জানার জন্য ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনে খোঁজখবর নিয়ে দেখতে পারেন।

তথ্যের আরো আনুষ্ঠানিক জায়গা
সরকার এবং বাণিজ্যিকখাতের মধ্যে যোগাযোগের প্রতিটি জায়গা কোনো না কোনো সরকারি নথিতে লিপিবদ্ধ থাকে।

সরকারের সাথে প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক কোথায়-কীভাবে খুঁজবেন, সেজন্য কিছু পরামর্শ:

জমি মালিকানা – নাম এবং বিবরণ
ভূমি উন্নয়ন – বিল্ডিং, জোনিং এবং বিশেষ পারমিট
পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ – ডিসচার্জ পারমিট, নির্গমন রিপোর্ট এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
শ্রম প্রবিধান – পেশাগত নিবন্ধন এবং শ্রম বিরোধ
আদালতের রেকর্ড – পক্ষে-বিপক্ষে মামলা
আর্থিক নিয়ন্ত্রণ – ফাইলিং বা তাদের বিরুদ্ধে নেয়া ব্যবস্থা
বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ – পেটেন্ট এবং ট্রেডমার্ক নিবন্ধন
সরকারি চুক্তি – বিড এবং কাজ দেয়ার রেকর্ড
সরকারি ভর্তুকি – পেমেন্ট রেকর্ড
রাজনৈতিক অনুদান – কর্মকর্তাদের অনুদান
লবিং নিবন্ধন – প্রভাব সম্পর্কে যত ডিসক্লোজার

কোম্পানিটি কোন খাতে কাজ করে, সেই দৃষ্টিকোন থেকে চিন্তা করলে অনেক প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া যায়।

উদাহরণস্বরূপ, তেল, গ্যাস এবং খনি কোম্পানিগুলোর গোটা বিশ্বের আর্থিক নিয়ন্ত্রকদের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দেয়, তেমন ২০ লাখ নথি পেতে পারেন ওপেন অয়েল-এর ডেটাবেসে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের একটি টুল আছে, যা দিয়ে ২০ টি বৃহত্তম ইউরোপীয় ব্যাংকের আর্থিক তথ্য যাচাই করা যায়। আরো দেখতে পারেন, টিআই এর কর্পোরেট রাজনৈতিক যোগসূত্র সূচক ২০১৮।

আদালতের রেকর্ড অমূল্য সম্পদ হতে পারে। যেমন, PACER; এটি মার্কিন সুপ্রীম কোর্ট, আপীল ও জেলা আদালত এবং দেউলিয়া আদালত, তথা দেশটির ফেডারেল আদালত ব্যবস্থার সব ইলেকট্রনিক আর্কাইভ ধরে রাখে।

কোন আইন ও নীতিমালা ব্যবসাকে প্রভাবিত করে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কী কাগজপত্র আছে, তা ভেবে দেখুন। সংযোগগুলো এলাকা এবং ব্যবসার ধরণভেদে একেবারে আলাদা হতে পারে, কিন্তু চিন্তার খোরাক বা ‍সূত্র যোগায়।

সরকারী উদ্যোগ বা সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার কোনো অনুরোধ অনেক সময় সরকারী কাগজপত্রে প্রতিফলিত হতে পারে। ইউরোপের ক্ষেত্রে, ওপেন গেজেট নামের প্লাটফর্মে, ইউরোপীয় গেজেটগুলো পাওয়া যায়।
সাংবাদিকদের জন্য গাইড
কর্পোরেটদের নিয়ে গবেষণা এবং কোম্পানির আর্থিক অবস্থা বুঝার জন্য অনলাইনে প্রচুর উপাদান আছে।

সাংবাদিকদের জন্য তার কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হল:

ডার্ট ডিগারস্ ডাইজেস্ট টু স্ট্র্যাটেজিক কর্পোরেট রিসার্চ, এটি লিখেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্পোরেট রিসার্চ প্রজেক্টের পরিচালক ফিলিপ ম্যাটেরা।  এটি ২০১৪ সালে প্রকাশিত, কিন্তু এখনো যথেষ্ট উপযোগী।

কিভাবে অর্থ অনুসরণ করবেন: ক্রস-বর্ডার অনুসন্ধানের টিপস,  এটি জিআইজেএন-এর সাথে OCCRP’র সম্পাদক মিরান্ডা প্যাট্রুচিচের প্রশ্নোত্তর।

জিআইজেএন: কোনও সংস্থার আর্থিক রেকর্ড হাতে পেলে আপনি প্রথমে কী করেন?

কোভিড-১৯: সাংবাদিকদের জন্য যত রকম অর্থসহায়তা

English

কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ে ভালো রিপোর্টিংকে উৎসাহিত করতে সাংবাদিকদের জন্য অনুদান নিয়ে এগিয়ে আসছে দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

আপনি কি কোভিড-১৯ কভার করার জন্য আরও রিসোর্স খুঁজছেন? তাহলে জিআইজেএন এর রিসোর্স সেন্টার থেকে ঘুরে আসতে পারেন।এর পাশাপাশি এই মহামারির কারণে যেসব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আর্থিক চাপে পড়েছে, তাদের জন্যও সাহায্য দিচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন।

এই ধরনের যত সুযোগ এখন পর্যন্ত এসেছে, তাদের একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে জিআইজেএন। নিচে পাওয়া যাবে তার বিবরণ।

এর বাইরেও বিভিন্ন ব্যক্তি ও সরকার থেকে সহায়তা তহবিলের ঘোষণা এসেছে। এগুলো সরাসরি গণমাধ্যমের কথা না বললেও সাংবাদিকেরা তাকে নিজেদের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন বেলআউট সম্পর্কে নিম্যান ল্যাবে প্রকাশিত এই নিবন্ধ এবং কানাডা সরকারের এই মিডিয়া ইনজেকশনটি দেখে নিতে পারেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রিল্যান্সাররাও এমন আর্থিক সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারে।

কিছু কিছু সুযোগের ক্ষেত্রে সময়সীমা সীমিত। আপনি যদি এমন কোনো সুযোগের কথা জানেন, আমাদের জানাতে পারেন, এই ইমেইলে hello@gijn.org।
কোভিড-১৯ রিপোর্টিং অনুদান
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি (গ্লোবাল)

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের জন্য একটি জরুরি তহবিল গঠন করেছে। যাঁরা নিজ নিজ এলাকা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর কোভিড-১৯-এর প্রভাব নিয়ে কাজ করতে চান, তাঁরা এই তহবিল পেতে পারেন।

প্রতিষ্ঠানটি অনুদানের আবেদন গ্রহণ করছে ধাপে ধাপে। একেক দফায় জমা পড়া আবেদন থেকে সেরা প্রস্তাব বাছাই করে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। তারপর আবার আবেদন সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তারা প্রস্তাবের গুণাগুণ বিবেচনা করে ১,০০০ থেকে ৮,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনুদান দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, “বিশ্বব্যাপী এই মহামারির প্রস্তুতি, প্রতিক্রিয়া এবং প্রভাবের ওপর প্রমাণনির্ভর সাংবাদিকতা” যাঁরা করতে চান, তাঁরাই অর্থসহায়তা পাবেন।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক তহবিল “বেশি জোর দিচ্ছে, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগে”। তারা আগ্রহী “আঞ্চলিক এবং এমনকি ক্ষুদ্র-অঞ্চলভিত্তিক (জেলা এমনকি তার চেয়েও ছোট পরিসরে কাজ করা গণমাধ্যম) বিতরণ মডেলে”। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, “কোভিড-১৯-এর কারণে যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে,” তারা সেই গল্পই দেখতে চায় বেশি করে। আরও তথ্যের জন্য তাদের ঘোষণা দেখুন।

লেখক, ফটোগ্রাফার, ভিডিওগ্রাফার, অডিও সাংবাদিক, কার্টোগ্রাফার, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং ডেটা ভিজুয়ালাইজেশন বিশেষজ্ঞরা এই তহবিলের জন্য আবেদন করতে পারেন।

পুলিৎজার সেন্টার (গ্লোবাল)

পুলিৎজার সেন্টার অন ক্রাইসিস রিপোর্টিং চালু করেছে করোনাভাইরাস নিউজ কোলাবরেশন চ্যালেঞ্জ। তাদের নতুন এই অনুদান, সাংবাদিক এবং নিউজরুমগুলোর মধ্যে সহযোগিতামূলক সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করছে। রাষ্ট্রীয় এবং জাতীয় সীমারেখার ভেতেরে ও বাইরে করোনাভাইরাস মহামারির খবর সংগ্রহকে বেগবান করতেই তাদের এই উদ্যোগ। এই সুযোগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশের সব স্বাধীন সাংবাদিক এবং নিউজরুমের জন্য উন্মুক্ত।

এই অনুদান পেতে হলে প্রতিবেদন তৈরি এবং প্রকাশের ক্ষেত্রে শক্তিশালী কোলাবরেশন বা সহযোগিতা কাঠামো থাকতে হবে। আবেদনের জন্য এর বাইরেও যা যা মাথায় রাখতে হবে:

করোনাভাইরাস সংকটের অন্তর্নিহিত সিস্টেমিক ইস্যুতে নজর দিন, যা নিয়ে খুব বেশি রিপোর্টিং হয়নি।
করোনাভাইরাস নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য ডেটাভিত্তিক এবং/অথবা বিষয়-নির্দিষ্ট পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
ক্ষমতাকে জবাবদিহি করার বিষয়টি রাখুন।

করোনাভাইরাস নিউজ কোলাবরেশন চ্যালেঞ্জের জন্য পুলিৎজার সেন্টার আবেদন জমা নিচ্ছে পর্যায়ক্রমিক ভিত্তিতে।

ইন্টারনিউজ (গ্লোবাল)

ইন্টারনিউজ গঠন করেছে ইনফরমেশন সেইভস লাইভস র‌্যাপিড রেসপন্স ফান্ড। সেই সব গণমাধ্যম, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি এই তহবিল থেকে সহায়তা পেতে আবেদন করতে পারেন; যাঁরা স্থানীয় ভাষায় কোভিড/করোনাভাইরাস মহামারি এবং তার প্রভাব সম্পর্কে তথ্য বা খবর জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চান। অনুদানের অঙ্ক হতে পারে ৫০০ থেকে ৫,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। এই টাকা খরচ করতে হবে “ এমন তথ্যের নির্মাণ, প্রযোজনা এবং প্রচারের জন্য, যা করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে এবং তাদের নিজের পরিবার ও সম্প্রদায়ের জন্য সুষ্ঠু সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে: বিষয় হতে পরে বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন, রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা, স্থানীয় স্বাস্থ্য নীতি ও পদ্ধতি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিদিনের দরকারি খবর ও তথ্য ইত্যাদি।”

এর পাশাপাশি ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি, রাশিয়ানসহ বিভিন্ন ভাষায় করোনাভাইরাস কাভার করার জন্য বিনা পয়সায় পরামর্শ এবং বিশেষজ্ঞ সহায়তাসহ অ্যাডভাইজরি তৈরিতেও ইন্টারনিউজ অতিরিক্ত বিনিয়োগ করবে। বিস্তারিত এখানে।

ফান্ডটি চালু করার পর থেকে এত বেশি আবেদন এসেছে যে, ইন্টারনিউজকে আপাতত আবেদন সংগ্রহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রথম দফায় যত আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলোর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে, সেরা প্রস্তাবগুলোকে তারা সহায়তা দেবে। পরবর্তীকালে কবে আবেদন করা যাবে, তাদের সাইটে জানিয়ে দেওয়া হবে।

ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স মিডিয়া ফাউন্ডেশন (গ্লোবাল)

আইডব্লিউএমএফের সাংবাদিকতা ত্রাণ তহবিল, এমন নারী সাংবাদিকদের জন্য যাঁরা চাকরি বা কাজ হারিয়ে গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছেন, এবং অপূরণীয় ক্ষতি এড়ানোর জন্য যাদের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। অনুরোধের ধরন অনুসারে এই তহবিল একেকজনকে সর্বোচ্চ ২০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনুদান প্রদান করবে। দ্রষ্টব্য: যাদের বেশি আর্থিক প্রয়োজন, তাদের কেস-টু-কেস ভিত্তিতে বিশেষ বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হবে।

উইমেন ফটোগ্রাফ (গ্লোবাল)

কোভিড-১৯ জরুরি তহবিল থেকে বিশ্বব্যাপী নন-বাইনারি এবং স্বাধীন নারী ফটোগ্রাফারদের জন্য একককালীন সহায়তা দিচ্ছে, উইমেন ফটোগ্রাফ। এই টাকা কোন কাজে খরচ করা যাবে, সে সম্পর্কে কোনো বিধিনিষেধ নেই। স্বাস্থ্যসেবা, শিশুযত্ন, বাসাভাড়া, পেশাদার ব্যয়—এমন যেকোনো কাজেই  ইত্যাদি। প্রথম দফা আবেদনের সময়সীমা ৩ এপ্রিল শেষ হয়েছে। দাতাদের কাছ থেকে তহবিল পেলে তারা আবার আবেদন সংগ্রহ শুরু করবে।

লেখকদের জন্য জরুরি সহায়তা তহবিল (গ্লোবাল)

অর্থসহায়তা কেবল তাঁদের জন্যই, যাঁরা বর্তমানে অসুস্থ বা কোনো অসুস্থ ব্যক্তির যত্ন নিতে হয় বলে কাজ করতে পারেন না। আমেরিকান সোসাইটি অব জার্নালিস্টস অ্যান্ড রাইটার্সের মতে, “আবেদনের জন্য লেখকদেরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসী হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তবে তাঁদের অবশ্যই ইংরেহি ভাষায় লেখা বই বা নিবন্ধ জমা দিতে হবে।”

ফটোগ্রাফার ফান্ড (গ্লোবাল)

ফটোগ্রাফার তহবিলটি গঠন করেছে ফরম্যাট। তাদের লক্ষ্য হলো, সেই সব স্বনিয়োজিত ফটোগ্রাফারের সহায়তা করা, যাঁরা কোভিড-১৯-এর কারণে আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। ফরম্যাট হলো একটি অনলাইন পোর্টফোলিও প্ল্যাটফর্ম, যেখানে পোর্টফোলিও তৈরির মাধ্যমে নিজেদের কাজ প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারেন ফটোগ্রাফাররা। এই তহবিল থেকে একেকজনকে ৫০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়।
সংবাদ প্রতিষ্ঠানের জন্য সহায়তা
ফেসবুক (গ্লোবাল)

সংবাদশিল্পকে বাঁচাতে ফেসবুক এরই মধ্যে ১০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে থেকে আড়াই কোটি ডলার খরচ করা স্থানীয় ছোট ছোট গণমাধ্যমের জন্য জরুরি সহায়তা হিসেবে, ফেসবুক জার্নালিজম প্রজেক্টের মাধ্যমে। আর বাকি সাড়ে সাত কোটি ডলার তারা খরচ করবে বিপণন কার্যক্রমে, যেন বিশ্বের সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে অর্থ পৌঁছাতে পারে।

কোভিড-১৯ কমিউনিটি নেটওয়ার্ক গ্র্যান্ট প্রোগ্রামের আওতায় তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ৫০টি স্থানীয় গণমাধ্যমকে সহায়তা দিয়েছে, প্রথম দফায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে এই দুই দেশের আরও ৪০০টি ক্ষুদ্র গণমাধ্যমকে সহায়তা দেওয়া হয়। তবে তৃতীয় রাউন্ড কবে আসবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এই তহবিলের আওতায় করোনাভাইরাসের খবর সংগ্রহ ও প্রকাশের জন্য ৫০০০ মার্কিন ডলার করে দেওয়া হয় গণমাধ্যমগুলোকে।

আগ্রহীদেরকে এই লিংকে গিয়ে ফেসবুক জার্নালিজম প্রজেক্ট নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করতে বলা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে।

এর বাইরে, স্মল বিজনেস গ্র্যান্ট প্রোগ্রামের আওতায় আরও ১০ কোটি ডলার অনুদান দিচ্ছে ফেসবুক। এখান থেকে ৩০টি দেশের ৩০ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসা তাদের কাছ থেকে ছোট অনুদান বা বিজ্ঞাপন ক্রেডিট পাবে।

গুগল (গ্লোবাল)

স্থানীয় কমিউনিটি নিয়ে কাজ করছে, এমন ছোট ও মাঝারি নিউজরুমগুলোকে জরুরি অর্থসহায়তা দেওয়ার জন্য জার্নালিজম ইমার্জেন্সি রিলিফ ফান্ড গঠন করেছে গুগল। কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্পন্ন সাংবাদিকতা জারি রাখাই এই অনুদানের প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে তারা। অন্তত এক বছর ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং দুই থেকে এক শ জন পূর্ণকালীন কর্মী আছেন, এমন নিউজরুমগুলো এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবে।

করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে ভুয়া তথ্য ও গুজব মোকাবিলায় ফ্যাক্টচেকার এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৬৫ লাখ ডলার দেবে গুগল। সম্প্রতি তারা এই ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গুগল নিউজ ইনিশিয়েটিভ প্রথমে ফার্স্ট ড্রাফটকে সহায়তা করছে। তারা এরই মধ্যে কোভিড-১৯ নিয়ে সাংবাদিকদের জন্য একটি রিসোর্স হাব তৈরি করেছে, যেখানে প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ক্রাইসিস সিমুলেশন পর্যন্ত অনেক ধরনের রিসোর্স আছে।

সুরক্ষা ও নিরাপত্তা

English
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সাংবাদিকদের জন্য এই পরিসংখ্যানগুলো খুব হতাশাজনক। কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের সূত্রমতে, ১৯৯২ সাল থেকে, হত্যার শিকার হয়েছেন ১৩০০-র বেশি সাংবাদিক। তাঁদের মধ্যে ৭০০-র বেশি ক্ষেত্রে এই হত্যার কোনো বিচার হয়নি। হত্যাকারীকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। আর এখন বিশ্বজুড়ে ২৫০ জনের বেশি সাংবাদিক আছেন কারাবন্দি। সেটিও এমন কাজ করতে গিয়ে, যা বিশ্বের অনেক জায়গাতেই বিবেচনা করা হয় রুটিন রিপোর্টিং হিসেবে।

আর এই পরিস্থিতি মনে হচ্ছে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যাচ্ছে হামলা ও হত্যা; রেকর্ড পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। ম্যারি কোলভিন বা ড্যানিয়েল পার্লের মতো হাই প্রোফাইল পশ্চিমা সাংবাদিকদের হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিকভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত সাংবাদিকেরা স্থানীয় গণমাধ্যমে কাজ করছেন। আর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো হিমবাহের ওপরের অংশটুকু মাত্র। এর বাইরে মারধর, অপহরণ, কারাবন্দি এবং আরও অনেক ধরনের হুমকির সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এগুলোও সাংবাদিকদের চুপ করিয়ে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

হুমকিগুলো অনেক দিক থেকে আসে। মাদক ব্যবসার গোষ্ঠী বা বিদ্রোহী গ্রুপ; স্বৈরশাসক বা জাতিগত বিদ্বেষ; বুলেট অথবা সন্ত্রাসীদের বোমা; অনেক কিছুর মধ্যেই পড়তে হয় সাংবাদিকদের। একেক জায়গায় হুমকি-নিপীড়নের ধরন একেক রকম। ফলে “একক বা সহজ সমাধান” জাতীয় কিছু নেই।

এই সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করছে বেশ কিছু পেশাজীবী সংগঠন এবং বড় কিছু বহুমাত্রিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। যাদের মধ্যে আছে জাতিসংঘ এবং অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপ।

গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের রিসোর্স পেজ সিরিজের অংশ হিসেবে, আমরা প্রকাশ করছি সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত এই গাইড। শুরুতেই থাকছে এ বিষয়ে এরই মধ্যে যেসব গুরুত্বপূর্ণ গাইড আছে, সেগুলোর লিংক। এরপর থাকছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রধান কিছু আন্তর্জাতিক গ্রুপের লিংক, যারা কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ওপর সহিংস হামলা নিয়ে কাজ করে।
নিরাপদ থাকা এবং সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি কাভারের গাইড
কমিটি ফর দ্য প্রটেকশন অব জার্নালিস্টস সেফটি কিট: ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়েছে সিপিজের চার পর্বের এই সুরক্ষা গাইড। এখানে শারীরিক, ডিজিটাল, মানসিক সুরক্ষার রিসোর্স ও টুলস সম্পর্কে মৌলিক কিছু তথ্য রয়েছে সাংবাদিক ও নিউজরুমগুলোর জন্য। এ ছাড়া সিপিজে প্রকাশ করেছে সুরক্ষাসংক্রান্ত কিছু প্রতিবেদন। যেমন ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল ফিজিক্যাল সেফটি: সলো রিপোর্টিং এবং ফিজিক্যাল সেফটি: মিটিগেটিং সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স। দেখতে পারেন সিপিজের ইউএস ইলেকশন ২০২০: জার্নালিস্ট সেফটি কিট।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্র্যাকটিক্যাল গাইড। ২০১৭ সালে এটি হালনাগাদ করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস ও ইউনেসকো। পাওয়া যাচ্ছে ইংরেজি, ফরাসি, স্প্যানিশ ও পর্তুগিজ ভাষায়।

বিক্ষোভ কাভার করার জন্য নিরাপত্তা ম্যানুয়াল তৈরি করেছে আবরাজি (দ্য ব্রাজিলিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম।) পুরো ম্যানুয়ালটি এখানে পাবেন ইংরেজিতে।

ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের সুরক্ষাসংক্রান্ত নীতিমালা: ২০১৫ সালে এই গাইডলাইন তৈরি করেছিল বড় কিছু কোম্পানি ও সাংবাদিকতা-সংশ্লিষ্ট সংগঠনের জোট। এটি পরবর্তীকালে অনুবাদ করা হয়েছে সাতটি ভাষায়।

নারী সাংবাদিকদের সুরক্ষাসংক্রান্ত হ্যান্ডবুক। ২০১৭ সালে ৯৫ পৃষ্ঠার এই গাইড তৈরি করেছে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ওমেন ইন রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশন। যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কাজ করা নারী সাংবাদিকদের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। ঝুঁকি নির্ধারণ, অনলাইন নিপীড়ন ও ভ্রমনসংক্রান্ত সুরক্ষা বিষয়ে আলাদা অধ্যায় আছে এই গাইডে।

অনলাইনে সাংবাদিকদের হয়রানি: ট্রোল বাহিনীর আক্রমণ: সাংবাদিকদের জন্য বিপজ্জনক বিষয়গুলো চিহ্নিত করা এবং তাদের সাহায্য দিতে ১২টি কার্যালয়ের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের হুমকি দেয়া হয়, ভয় দেখিয়ে চুপ করানোর জন্য। সরকার, আন্তর্জাতিক সংগঠন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সংবাদমাধ্যম ও বিজ্ঞাপনদাতারা কীভাবে এসব ক্ষতিকর অনলাইন প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, সে জন্য ২০১৮ সালে ২৫টি পরামর্শ হাজির করেছে আরএসএফ। দেখুন জিআইজেএন-এর সারসংক্ষেপ।

সংবাদমাধ্যমগুলোর নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্ব-মূল্যায়ন। এটি এসিওএস অ্যালায়েন্সের একটি টুল। যা দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত চর্চা ও প্রটোকল যাচাই করতে পারে এবং সেটি আরও উন্নত করতে পারে। এসিওএস অ্যালায়েন্স বিভিন্ন সাংবাদিকতা-সংশ্লিষ্ট গ্রুপের একটি জোট। ২০১৯ সালের এই স্ব-মূল্যায়ন টুলটিতে আছে “কিছু প্রধান প্রশ্ন ও গাইডলাইন, যা সুরক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে একটি গঠনমূলক আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং সেগুলো কার্যকর ও বাস্তবসম্মতভাবে কাজে লাগানোর বিষয়ে অনুপ্রাণিত করবে।” (স্ব-মূল্যায়নের টুলটি এখানে পাবেন ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষায়।)

সেফ+সিকিউর ২০১৯ সালে প্রকাশ করেছে একটি হ্যান্ডবুক ও ইস্যুকেন্দ্রিক চেকলিস্ট। তথ্যচিত্র নির্মাতাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেরা কিছু রিসোর্সের খবর আছে এখানে। একই সঙ্গে আছে এ বিষয়ে আরও তথ্য বা প্রশিক্ষণ কোথায় পাওয়া যাবে, সেই খোঁজও।

হয়রানি-হেনস্তার শিকার হওয়া সাংবাদিকদের জন্য আইপিআইয়ের ৫ পরামর্শ। ২০২০ সালে এই প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট। অনলাইনে হয়রানির শিকার হওয়া সাংবাদিকদের কীভাবে সাহায্য-সমর্থন দেওয়া যায়, তা নিয়ে নিউজরুমগুলোর জন্য প্রটোকল বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে এখানে। অনলাইনে হয়রানি বিষয়ে অন্যান্য রিসোর্সও তৈরি করেছে আইপিআই।

অনলাইন হয়রানির ফিল্ড ম্যানুয়াল। ২০১৭ সালে এটি তৈরি করেছে পেন আমেরিকা। “লেখক, সাংবাদিক, তাদের মিত্র এবং চাকরিদাতারা কীভাবে অনলাইনে বিদ্বেষ ও হয়রানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারেন, তার কার্যকর কিছু কৌশল ও রিসোর্সের” হদিস রয়েছে এখানে।

গণমাধ্যমকর্মী এবং সশস্ত্র সংঘর্ষ। ২০১৭ সালে এই হ্যান্ডবুক তৈরি করেছে ব্রিটিশ রেড ক্রস এবং ব্রিটিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড কমপারেটিভ ল (বিআইআইসিএল)।

ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্টে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের কোন জিনিসগুলো খেয়াল রাখা দরকার, তা জানিয়ে দুই পৃষ্ঠার চেকলিস্ট তৈরি করেছে দ্য এসিওএস অ্যালায়েন্স।

পরিবর্তনের জন্য রিপোর্টিং: সংকটপূর্ণ অঞ্চলের স্থানীয় সাংবাদিকদের হ্যান্ডবুক। ২০০৯ সালে এটি তৈরি করেছে ইনস্টিটিউট ফর ওয়ার অ্যান্ড পিস রিপোর্টিং। এখানে একটি অধ্যায় আছে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে। এটি পাওয়া যাচ্ছে ইংরেজি, আরবি, ফার্সি, রাশিয়ান, কাজাখ, কিরগিজ ও তাজিক ভাষায়।

দ্য সেফটি নেট ম্যানুয়াল। উপশিরোনাম: অস্বাভাবিক ও জরুরি পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের জন্য গাইডলাইন। ২০১৭ সালে এটি তৈরি করেছে সাউথইস্ট ইউরোপ মিডিয়া অর্গানাইজেশন। এটি পাওয়া যাচ্ছে ইংরেজিসহ ১১টি আঞ্চলিক ভাষায়।

দ্য জেমস ডব্লিউ. ফোলি জার্নালিস্ট সেফটি গাইড: এ কারিকুলাম প্ল্যান ফর কলেজ জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইনস্ট্রাক্টর। ২০১৪ সালের ১৯ আগস্ট সিরিয়াতে হত্যা করা হয়েছিল সাংবাদিক জেমস ফোলিকে। তাঁকে নিয়ে নির্মিত এইচবিওর একটি তথ্যচিত্রের সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে পাঁচ সেশনের এই কোর্স। এই শিক্ষা কার্যক্রমে আছে অনেক রেফারেন্স ম্যাটেরিয়াল। বিশেষত বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রবন্ধ। যেগুলোতে পরিবেশ-পরিস্থিতি বর্ণনা করা হয়েছে এবং নানাবিধ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। “FoleySafety” এই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এখানে অংশ নিতে পারবেন।

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ওপেন সোর্স ইনভেস্টিগেশনের সময় কীভাবে শনাক্ত করবেন অন্যদের দ্বারা সংক্রামিত মানসিক চাপ এবং কীভাবে সেটি কাটিয়ে উঠবেন, ২০১৮ সালে প্রবন্ধটি লিখেছিলেন হান্না ইলিস। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্কম্যান ক্লাইন সেন্টার ফর ইন্টারনেট অ্যান্ড সোসাইটির গবেষণা সহযোগী।

ফ্রিল্যান্স ফাইলস: সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্যও সাহায্যের ব্যবস্থা আছে। ২০১৭ সালে সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্টাল জার্নালিস্টসের ওয়েবসাইটে এই প্রবন্ধ লিখেছিলেন ডেল উইলম্যান।

সাংবাদিকতা ও সংক্রমিত মানসিক চাপ: সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য একটি গাইড। অন্যদের কাছ থেকে যে মানসিক চাপ সংক্রমিত হয়, এবং তা মোকাবিলায় যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়, তা নিয়ে বাস্তব কিছু পরামর্শ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ২০১৭ সালের এই হ্যান্ডবুকে। এটি লিখেছেন স্যাম ডুবারলি ও মাইকেল গ্রান্ট।

নারী সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেয় ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স মিডিয়া ফাউন্ডেশন। এখানে দেখুন তাদের রিসোর্সের তালিকা।

সাংবাদিকদের আত্ম-যত্ন, ২০১৯ সালের  নিকার সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছিল এই “বাস্তবসম্মত গাইড”।

সাংবাদিকদের টিকে থাকার গাইড। এখানে আছে অ্যানিমেশন দিয়ে বানানো নয়টি লেসন। কীভাবে টিয়ার গ্যাস সামলাতে হবে, এমন তথ্যও আছে এখানে। ২০১২ সালে এটি তৈরি করেছিল সামির কাসির ফাউন্ডেশনের এসকিইজ সেন্টার ফর মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল ফ্রিডম।

নৃশংসতা নিয়ে রিপোর্টিং। সাক্ষাৎকার নেওয়া বিষয়ে এই লেখা ২০১৪ সালে লিখেছিলেন পিটার দু টোয়িত। এখানে একটি অধ্যায় আছে “নিজের যত্ন নেওয়া” প্রসঙ্গে।

জরুরি প্রটোকল কেস স্টাডি। এটি লিখেছেন রাশিয়ান সংবাদপত্র মেডুজার অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইভান গোলুনভ। জিআইজেসি১৯-এ তিনি ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন যে, তাঁকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তখন মেডুজা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিল।

গ্রাউন্ডট্রুথ: প্রতিনিধিদের জন্য একটি ফিল্ড গাইড। মাঠে গিয়ে সাংবাদিকদের কোন জিনিসগুলো মেনে চলতে হবে ও চর্চা করতে হবে, তার একটি গাইডলাইন আছে এখানে। আরও আছে অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের প্রবন্ধ। ২০১৯ সালের এই প্রবন্ধটি দেখুন: হুমকি ও হয়রানি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পাঁচটি পরামর্শ

ট্র্যাজেডি ও সাংবাদিক। ১৯৯৫ সালে এটি তৈরি করেছে ডার্ট সেন্টার ফর জার্নালিজম অ্যান্ড ট্রমা।
সাংবাদিকতার সুরক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত গ্রুপ
আ কালচার অব সোসাইটি (এসিওএস)। ২০১৫ সালের শেষে এই জোট তৈরি হয়েছিল বড় নিউজ কোম্পানি ও সাংবাদিকতা-সংশ্লিষ্ট সংগঠনদের নিয়ে। তাদের লক্ষ্য ছিল বিশ্বজুড়ে কাজ করা ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের সুরক্ষা মানদণ্ড আরও উন্নত করা। নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান, প্রশিক্ষণ, বীমা ও যোগাযোগের নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে এই জোট।

আর্টিকেল ১৯: এটি লন্ডনভিত্তিক সংগঠন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মুখে আসলে তা নিয়ে প্রচার-প্রচারণা ও দেনদরবার করে আর্টিকেল ১৯। এ ছাড়া তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে, গবেষণা করে ও সেগুলো প্রকাশ করে। পেশাগত কারণে নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের জীবন হুমকির মুখে আছে, এমন সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রচার চালায় আর্টিকেল ১৯।

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে): নিউইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন পরিচালিত হয় সাংবাদিকদের দ্বারা গঠিত পরিচালনা পর্ষদ দিয়ে। সিপিজে প্রতিটি দেশ ধরে ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক নানা মিশন পরিচালনা করে এবং সাংবাদিক নিপীড়ন ও হত্যার বিচার না হওয়ার তালিকা হালনাগাদ করে। সিপিজের জার্নালিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম থেকে আইনি, চিকিৎসা বা অন্য কোথাও পুনর্বাসনের সহায়তা পান হুমকির মুখে থাকা সাংবাদিকেরা। একই সঙ্গে তারা সাহায্য-সহযোগিতা দেয় হত্যার শিকার হওয়া বা জেলে থাকা সাংবাদিকদের পরিবারকে।

ফাস্ট ড্রাফট ‍তৈরি করেছে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম। যেখান থেকে নিউজরুমগুলো অনলাইন হুমকির বিরুদ্ধে প্রস্তুত হওয়াসংক্রান্ত সহায়তা পাবে। তারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিচ্ছে এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।

গ্লোবাল জার্নালিস্ট সিকিউরিটি। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়াশিংটনভিত্তিক এই পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেন সংবাদকর্মী, নাগরিক সাংবাদিক, মানবাধিকার ও এনজিও কর্মীদের। তারা উন্নত ও উদীয়মান গণতান্ত্রিক দেশগুলোর নিরাপত্তারক্ষীদের প্রশিক্ষণ দেন যে কীভাবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের মানদণ্ডগুলো মেনে চলা যায় এবং কীভাবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে নিরাপদে লেনদেন করতে হবে।

ইন্টার আমেরিকান প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (আইএপিএ): মিয়ামি, ফ্লোরিডাভিত্তিক এই সংগঠন গড়ে উঠেছিল ১৯৪০-এর দশকের শেষ দিকে। এখন তাদের সদস্যসংখ্যা ১৪০০। এবং তারা ছড়িয়ে আছে চিলি থেকে কানাডা পর্যন্ত। সংগঠনটি পুরো আমেরিকা মহাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে ও এর পক্ষে কাজ করে। কোনো সাংবাদিক হত্যার শিকার হলে তারা একটি র‌্যাপিড রেসপন্স ইউনিট নিয়োগ করে। প্রতিটি দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে দ্বিবার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য তারা প্রকাশ করেছে একটি “ঝুঁকি মানচিত্র”। সাংবাদিক নির্যাতন বা হত্যা বিচার না হওয়ার ব্যাপারটি তারা আলাদাভাবে পর্যবেক্ষেণ করে। এ বিষয়ে এই অঞ্চলের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে তাদের “ইমপিউনিটি প্রজেক্ট”-এ।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে): ব্রাসেলসভিত্তিক এই সংগঠন আধুনিক রূপে যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৫২ সালে। আইএফজে নিজেদের বর্ণনা দেয় পুরো বিশ্বের সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে। তারা পর্যবেক্ষণ করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পরিস্থিতি এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে দেনদরবার করে। তারা প্রতিষ্ঠা করেছে ইন্টারন্যাশনাল নিউজ সেফটি ইনস্টিটিউট।

ইন্টারন্যাশনাল ফ্রিডম অব ইনফরমেশন এক্সচেঞ্জ (আইএফইএক্স): টরন্টোভিত্তিক এই সংগঠনের সবচেয়ে দৃশ্যমান ভূমিকা হলো: তথ্যের সূত্র। তারা পরিচালনা করে, যাকে তারা বলে “মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তারিত এবং উন্মুক্ত তথ্য সেবা”। তাদের আছে একটি সাপ্তাহিক নিউজলেটার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পর্কিত প্রবন্ধের নিয়মিত তালিকা প্রকাশ এবং বিশ্বজুড়ে তাদের সদস্যদের থেকে আসা “অ্যাকশন অ্যালার্ট”। ৫০টির বেশি দেশে ৯০টির বেশি সহযোগী সংগঠন আছে তাদের। ২০১১ সালে তারা ২৩ নভেম্বরকে ইন্টারন্যাশনাল ডে টু এন্ড ইনপিউনিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ সেফটি ইনস্টিটিউট (আইএনএসআই): এটি ব্রাসেলসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। ২০০৩ সালে এটি গড়ে উঠেছিল আইএফজে ও আইপিআইয়ের যৌথ উদ্যোগে। এটি নিজেদের বর্ণনা দেয় এভাবে: “বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করা সংবাদকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি কাজ করে সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিকদের সহায়তা দেওয়ার গ্রুপ ও ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত জোটের মাধ্যমে।” তারা প্রশিক্ষণ আয়োজন করে, সুরক্ষাসংক্রান্ত কৌশল-পরামর্শ ও ম্যানুয়াল তৈরি করে। এবং সাংবাদিকদের ওপর আসা যেকোনো আঘাত পর্যবেক্ষণ করে। সেটি সহিংস আক্রমণই হোক বা কোনো দুর্ঘটনা।

ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট (আইপিআই): ১৯৫০ সালে গঠিত হয়েছিল  ভিয়েনাভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান। আইপিআই নিজেদের বর্ণনা দেয় “সম্পাদক, সংবাদমাধ্যমের নির্বাহী ও অগ্রণী সাংবাদিকদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক” হিসেবে। আইএনএসআই-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে, তারা পর্যবেক্ষণ করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং প্রকাশ করে বার্ষিক ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম রিভিউ। ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোতে তারা নিয়মিত মিশন পরিচালনা করে এবং সাংবাদিকদের ওপর আসা হামলাগুলো চিহ্নিত করে।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল প্যারিসভিত্তিক এই সংগঠন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘনসংক্রান্ত তথ্য এক জায়গায় করে আরএসএফ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মিশনগুলোতে সহায়তা দেয়। সুরক্ষার লক্ষ্যে সংবাদমাধ্যম বা ব্যক্তি সাংবাদিকের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আর্থিক সহায়তা দেয়। সহায়তা দেয় জেলে থাকা সাংবাদিকদের পরিবারকেও। কাজ করে সাংবাদিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে। বিশেষভাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে। পেশাগত কাজে বিপজ্জনক জায়গায় যাচ্ছেন, এমন সাংবাদিকদের তারা বুলেটপ্রুফ ভেস্ট ও হেলমেট ভাড়া দেয় এবং বিমার ব্যবস্থা করে।

ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজপেপার এবং নিউজ পাবলিশার্স (ডব্লিউএএন-আইএফআরএ): ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্যারিসভিত্তিক এই সংগঠন। পাঁচটি মহাদেশ থেকে ১৮ হাজারের বেশি প্রকাশনার প্রতিনিধিত্ব করে ডব্লিউএএন। মৌলিক নানা বিষয়ে তথ্য ও সহায়তা প্রদান ছাড়াও ডব্লিউএএন বিশেষভাবে নজর দেয় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা পর্যবেক্ষণের দিকে। এবং তারা “দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পেইন এবং বিশেষ ঘটনাগুলো নিয়ে প্রচারপ্রচারণা চালায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে।”

ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড: নেদারল্যান্ডসের এই গণমাধ্যম উন্নয়ন এনজিও গঠন করেছে রিপোর্টার্স রেসপন্ড। এটি একটি আন্তর্জাতিক জরুরি তহবিল। যেখান থেকে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হয়। স্থানীয় নানাবিধ বাধার সম্মুখীন হয়েও কীভাবে দ্রুততম সময়ে আবার কর্মকাণ্ড শুরু করা যায়, সে বিষয়ে সক্ষম করে তোলা তাদের লক্ষ্য। কোনো সহায়তার অনুরোধ এলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাড়া দেওয়ার লক্ষ্য এই গ্রুপের।

ক্যালিটি ফাউন্ডেশন: সুইডেনভিত্তিক এই তহবিল থেকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হয় বিশ্বের সেসব রিপোর্টার ও ফটোগ্রাফারদের, যারা পেশাগত কারণে কারাগারে আছেন, শাস্তির সম্মুখীন হচ্ছেন বা নির্বাসনে যাচ্ছেন।

লাইফলাইন ফান্ড: দ্য লাইফলাইন এমব্যাটলড সিএসও অ্যাসিস্ট্যান্স ফান্ড থেকে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় হুমকি বা হামলার মুখে থাকা বিভিন্ন সিভিল সোসাইটি গ্রুপকে। যার মধ্যে সাংবাদিকদের সংগঠনও আছে। ১৭টি সরকার ও ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায়, লাইফলাইন দিয়ে থেকে স্বল্পমেয়াদি জরুরি অনুদান। এটি তারা দেয় চিকিৎসা সহায়তা, আইনি সহায়তা, আইনি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, অস্থায়ীভাবে অন্য কোনো জায়গায় স্থানান্তর, নিরাপত্তা ও সামগ্রী প্রতিস্থাপনের জন্য।

রোরি পেক ট্রাস্ট: লন্ডনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক এবং তাদের পরিবারকে বাস্তবিক সাহায্য-সহযোগিতা দেয়। তাদের কর্মদক্ষতা, সুরক্ষা, নির্ভয়ে কাজ করতে পারার অধিকার ইত্যাদি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে। ফ্রিল্যান্স অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম, ফ্রিল্যান্স রিসোর্স, রোরি পেক অ্যাওয়ার্ড ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে।

 

আরআইএসসি: রিপোর্টার্স ইনস্ট্রাক্টেড ইন সেভিং কলিগস একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্রুপ, যারা বিশ্বের দুর্গম ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কর্মরত সাংবাদিকদের বিনা মূল্যে সুরক্ষা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তাদের প্রশিক্ষণগুলোর প্রথম দুদিন কোনো সংকট মোকাবিলায় সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর চার দিন থাকে প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ। তাদের কর্মকাণ্ডগুলোতে সুযোগ পান অভিজ্ঞ, কর্মরত, ফ্রিল্যান্স ও আঞ্চলিক সাংবাদিকেরা। এটি প্রশিক্ষণগুলো আয়োজন করা হয় বিভিন্ন জায়গায় এবং কারা আবেদন করছে, সেটি দেখেও নির্ধারিত হয়।

তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগের যত রকম কৌশল

English
তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ করে তথ্য পাওয়া খুব সহজ – এমন না ভাবাই ভালো। আবেদন করে পাওয়া তথ্য যে সবসময় আপনার কাজে লাগবে তা-ও নয়। তবু লেগে থাকলে ভালো ফল পাওয়া যায়। একারণে বিশ্বের যেখানেই এই আইন আছে, সেখানেই সাংবাদিকরা একে কাজে লাগিয়ে তৈরি করছেন অসাধারণ সব রিপোর্ট। একের পর এক বাধা পেরিয়ে যারা শেষ পর্যন্ত কঠিন সব তথ্য হাতে পাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, চাইলে তাদের পথ ধরে হেঁটে যেতে পারেন আপনিও। তখন, বিষয়টি সম্পর্কে আপনার ভয়ও কমে আসবে অনেকটাই।

একেক দেশের তথ্য অধিকার আইন একেকরকম হতে পারে। এই বৈচিত্র্যের কারণে, সবার কাজে আসবে এমন গড়পড়তা পরামর্শ দেয়া কঠিন। তবুও, অভিজ্ঞ সাংবাদিক এবং তথ্য অধিকার বিশেষজ্ঞদের দেওয়া পরামর্শে উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া যায়।

ভারত, মেক্সিকো, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক-গবেষকদের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে জিআইজেএন তথ্য অধিকার আইন ব্যবহারের আটটি সাধারণ দিক খুঁজে পেয়েছে। এখানে রইল তাদের সেই পরামর্শ ও প্রাসঙ্গিক লিংক, যা আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেবে এই আইন ব্যবহারের কিছু কার্যকর কৌশলের সাথে।
জিআইজেএনের ৮ পরামর্শ

১. আগাম পরিকল্পনা: খুঁজে বের করুন আপনি কী চান। তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগে বিশেষজ্ঞ কমবেশি সবাই জোর দিয়ে বলেছেন, নথিপত্র চাওয়ার আগে, পর্যাপ্ত গবেষণা করে নিন। নিশ্চিত হোন আপনি কী চান।

২.

হুইসেলব্লোয়িং: যারা গোপনে জানিয়ে দেন অনিয়মের খবর

English

হুইসেলব্লোয়ার তারাই, যারা প্রতিষ্ঠান বা কর্মপ্রক্রিয়ার ভেতরে থেকে দুর্নীতি বা অনিয়মের খবর ফাঁস করে দেন। সাংবাদিকদের জন্য তারা তথ্যের খুব গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের ভেতরে থেকে মারাত্মক সব তথ্য তারা জানিয়ে দেন। ফলে প্রতারণা ও অপচয় থেকে শুরু করে অপরাধের চক্রান্ত এবং যুদ্ধাপরাধের মত খবরও প্রকাশ হয়ে যায়।

হুইসেলব্লোয়ারদের উদ্দেশ্য বুঝে তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে দেখা সাংবাদিকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একইরকম গুরুত্বপুর্ণ হচ্ছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সৌভাগ্যক্রমে, হুইসেলব্লোয়িং নিয়ে বিশ্বব্যাপী অনেক এনজিও কাজ করে এবং প্রচুর তথ্যও পাওয়া যায়।

এই বিষয়ে সাংবাদিকদের সাহায্যের জন্য জিআইজেএন তৈরি করেছে এই রিসোর্স। এখানে হুইসেলব্লোয়িং ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক এবং ন্যাশনাল হুইসেলব্লোয়ার্স সেন্টার থেকে বিভিন্ন তথ্য নেয়া হয়েছে। আপনি সংশ্লিষ্ট কোনো গ্রুপের বিবরণ বা রিসোর্স যুক্ত করতে চাইলে hello@gijn.org এ লিখুন।
কোনো প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি, অবৈধ, প্রতারণামূলক বা ক্ষতিকর কাজের সাথে জড়িত থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী যখন প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের ওপরে জনস্বার্থকে স্থান দিয়ে সেই কার্যক্রমের গোপন তথ্য ফাঁস করে দেন – তাকেই হুইসেলব্লোয়িং বলে।
– রালফ নেডার, ভোক্তা আইনজীবী ও অ্যাক্টিভিস্ট

বিশেষজ্ঞদের দিকনির্দেশনা

যেসব হুইসেলব্লোয়ার আপনাকে তথ্য দিতে চায়, তাদের নিয়ে আপনাকেও ভাবতে হবে যত্নের সাথে।

তাদের সঙ্গে কাজ করার উপায় নিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা পরামর্শ ও নির্দেশনার একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে জিআইজেএন। বিস্তারিত জানতে রিপোর্টগুলো পড়ে দেখতে পারেন। 

সাংবাদিকদের জন্য পেরুজিয়া নীতিমালা: “ডিজিটাল যুগে হুইসেলব্লোয়ারদের সঙ্গে কাজ” – ২০১৯ সালে প্রকাশিত হওয়া এই গাইড লিখেছেন জুলি পোসেত্তি, ড. সুলেট ড্রেইফাস, এবং নাওমি কোলভিন। ২০১৮ সালের এপ্রিলে ইতালির পেরুজিয়া শহরে  আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ২০জন সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞ একটি গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন। ব্লুপ্রিন্ট ফর ফ্রি স্পিচ আয়োজিত এই আলোচনা থেকেই গাইডটির খসড়া তৈরি করেন লেখকরা। এরপর তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, আইন ও একাডেমিক কমিউনিটির সঙ্গে। আর সবশেষে তুলে আনেন এই ১২টি নীতি: 
১.