
২০১৪ সালের ইজরায়েল-গাজা যুদ্ধে বোমা হামলার ঘটনা তুলে ধরতে ফরেনসিক আর্কিটেকচার তাদের বোম্বিং অব রাফাহ প্রকল্পে ছবি ও ভিডিওগুলো একটি ত্রিমাত্রিক মডেলে বসিয়েছে। ছবি: ফরেনসিক আর্কিটেকচার
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে ফরেনসিক আর্কিটেকচার যেসব স্টোরি করেছে তার মধ্যে জেরুজালেমের বসতিতে জোরপূর্বক উচ্ছেদের ঘটনা ম্যাপিং থেকে শুরু করে ফিলিস্তিনের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে উপুর্যুপরি বোমা হামলার প্রভাবের ডিজিটাল বিশ্লেষণ পর্যন্ত নানা বৈচিত্রপূর্ণ বিষয় রয়েছে।
গোল্ডস্মিথসে অবস্থিত এই সংগঠন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের একটি অংশ। ওপেন সোর্স উপাদান, ডেটা, ছবি ও মানচিত্র ব্যবহারের মাধ্যমে তারা গতিশীল ভিজ্যুয়াল ও ইন্টারঅ্যাকটিভ অনুসন্ধান নির্মাণ করে; আর এই কাজে তারা মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ-জ্ঞানের সঙ্গে গবেষণা, স্থাপত্যবিদ্যায় দক্ষতা ও অনুসন্ধানী শক্তির মিশেল ঘটায়।

ফরেনসিক আর্কিটেকচারের প্রতিষ্ঠাতা ইয়াল ওয়াইজম্যান। ছবি: টম জেমস, ফরেনসিক আর্কিটেকচারের সৌজন্যে
ব্রিটিশ-ইসরায়েলি স্থপতি ইয়াল ওয়াইজম্যান ২০১০ সালে এফএ প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থাটির কর্মপরিধি বিশ্বজোড়া হলেও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে অনুসন্ধানই সব সময় তাদের মূল বিবেচ্য।
সার্বিকভাবে, এফএ-এর অনুসন্ধানগুলোর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, গোপন প্রমাণ খুঁজে বের করে বা বিভিন্ন সূত্র জড়ো করে সেগুলো দিয়ে একটি আকর্ষণীয় বর্ণনা তুলে ধরার সক্ষমতা। দলটি যে ঘটনাগুলো অনুসন্ধান করে, অনেক সময় সেগুলো ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে – যেমন ১৯৮৫ সালের কলম্বিয়ার প্যালেস অব জাস্টিসে অবরোধ নিয়ে তাদের বিশ্লেষণ। ২০২২ সালের মার্চে ইউক্রেনের কিয়েভে একটি টিভি টাওয়ারে গোলাগুলির সাম্প্রতিক খবরও তারা খতিয়ে দেখেছে।
তারা যে স্টোরিগুলো অনুসন্ধান করে, সেগুলো সুনির্দিষ্টভাবে সুক্ষাতিসুক্ষ ডেটা তুলে ধরে – যেমনটা দেখা গেছে ইজরায়েলি সামরিক চেকপয়েন্টে এক ফিলিস্তিনি যুবকের মৃত্যু, বৈরুতের বিশাল বন্দরে বিস্ফোরণ বা ইজরায়েলের গোপন এনএসও গ্রুপ নিয়ে গভীর অনুসন্ধানের মতো সাড়া জাগানো ঘটনার ক্ষেত্রে।
দলটির কর্মীরা মূলত সাংবাদিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন না। আর সত্যি বলতে কী, সেখানে কর্মীদের মধ্যে সাংবাদিকের চেয়ে স্থপতির সংখ্যা বেশি – নিঃসন্দেহে তাদের ফলাফল অনুসন্ধানমূলক। সাংবাদিকদের পাশাপাশি প্রকৌশলী, আইনজীবী ও গ্রাফিক আর্টিস্টেরা সেখানে কাজ করছেন।
দলটির সদস্য ও স্থাপত্য-গবেষক নুর আবুজাইদ বলেছেন, “মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অনুসন্ধানে আমরা স্থাপত্য-নকশার টুল ব্যবহার করি। এই কাজ করতে গিয়ে ইমেজ, ভিডিও ও শব্দ সহ বিভিন্ন মাল্টিমিডিয়া উপাদানের সন্নিবেশ ঘটানো হয় এবং এদের মধ্যকার যোগসূত্র বিশ্লেষণ ও গবেষণার লক্ষ্যে একটি ত্রিমাত্রিক কাঠামোতে বসানো হয়।”
এফএ যে ঘটনাগুলো অনুসন্ধান করে, প্রায় ক্ষেত্রেই কর্মপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, সেগুলোর জন্য একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ প্ল্যাটফর্মও তৈরি করে। এতে জনসাধারণ, গবেষক ও মানবাধিকার কর্মীরা ডেটাবেস, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং অনুসন্ধান পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন। তাদের অনুসন্ধান একটি আন্তর্জাতিক আদালতেও ব্যবহার করা হয়েছে।
জিআইজেএন, দলটির দুই সদস্যের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এদের মধ্যে আবুজাইদ ভূমিদখল নিয়ে গবেষণা করেন এবং অটোমেশন ও ভিজ্যুয়ালাইজেশনের জন্য কম্পিউটারে ব্যবহারযোগ্য টুল তৈরি করেন; আর গবেষক ও প্রকল্প সমন্বয়কারী ওমর ফেরওয়াতি বিমান হামলা থেকে ঔপনিবেশিক সহিংসতা, এমনকি পরিবেশগত বর্ণবাদ নিয়েও কাজ করেন।
ফেরওয়াতি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অনুসন্ধানে একটি নিয়মিত সমস্যা হলো “এই অঞ্চলে উন্মুক্ত তথ্য ও উপাত্তের প্রাপ্যতা।” এখানে তথ্যের রাজনীতিকীকরণও হতে পারে – যেমন, জেরুজালেমের শেখ জাররাহ এলাকায় ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর জোরপূর্বক উৎখাত নিয়ে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে যেসব বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বা যেসব জমি থেকে স্থানীয় অধিবাসীদের উৎখাতের হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর অবস্থান সম্পর্কিত ডেটা দিয়ে তাদের সাহায্য করতে পারেনি কোনো ফিলিস্তিনি সংস্থাই। অথচ ইজরায়েলের অধ্যুষিত পৌরসভা কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত তথ্যের যাবতীয় রেকর্ড, উচ্চ রেজুলুশনের মানচিত্র ও শহরের বিস্তারিত নকশা আছে।
আবুজাইদ বলেন, দলটি ওপেন সোর্স টুল ব্যবহার করে এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেছে। এর অর্থ হতে পারে, একটি ছবি থেকে সম্ভাব্য সব তথ্য বের করা, যেমন শ্যাডো এনালাইসিসের মাধ্যমে ছবি তোলার ক্ষণ জেনে নেয়া। তিনি বলেন, “আমাদের কর্মপদ্ধতির একটি হলো এই ঘাটতি পূরণ এবং দৃশ্যটিকে পূর্ণাঙ্গ করে তোলা।”
মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাব্য প্রমাণ থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় সংস্থাগুলো যেখানে ইচ্ছা করে কিছু তথ্য গোপন করে সেখানে সমস্যা আরও প্রকট হয়ে দাঁড়ায়।
ফেরওয়াতি ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমরা ওপেন সোর্স ও এর বিকাশের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলি, কারণ প্রতিষ্ঠান এবং সরকার, বেসরকারি সংস্থা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহের প্রথাগত পদ্ধতির ওপর ভরসা করে সবসময় কাজ হয় না, আর কোনো সহযোগিতাও পাওয়া যায় না।” তিনি বলেন, “আমাদের হাতে যা আছে, সেখানেই নজর দিতে হবে, যেমন: সাদা চোখে সামাজিক মাধ্যমগুলোকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না, কিন্তু কোনো ঘটনার চিত্র তুলে ধরতে বা পুনঃনির্মাণের ক্ষেত্রে এদের একটিকে অন্যটির সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়।”
সাধারণ মানুষের ধারণকৃত ভিডিও ও ছবিও গবেষক দলটি গুরুত্ব সহকারে দেখে থাকে। ফেরওয়াতি বলেন, “পর্দার পেছনের ঘটনা জানতে সত্যের কাছাকাছি যাওয়ার এটিই একমাত্র উপায়।”
তবে এই অঞ্চলে, কথা বলতে আগ্রহী মানুষ খুঁজে পাওয়া মোটেই সহজ নয়: প্রতিশোধের ভয়ে অনেকেই সতর্কতা অবলম্বন করেন।

ফরেনসিক আর্কিটেকচারের স্থপতি-গবেষক নুর আবুজাইদ। ছবি: ফরেনসিক আর্কিটেকচারের সৌজন্যে
আবুজাইদ বলেন, “অনেক সময় মানুষ ভয়ের কারণে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিজস্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে সরাসরি সাক্ষ্য দিতে চায় না।”
পশ্চিম তীরের একটি চেকপয়েন্টে ইজরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক ২৬ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি যুবকের নিহত হওয়ার ঘটনা অনুসন্ধানে দলটি এই ঘটনার দৃশ্যধারণকারী প্রত্যক্ষদর্শীদের খোঁজ করেছিল। কিন্তু শুরুতে এই প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই ভয়ে ছিলেন যে পাছে তাদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে যায় বা কোনো ছবির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে পড়ে।
দলটির অনেকের এই ধরনের রিপোর্টিংয়ে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে সিরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘন নথিবদ্ধ করতে গিয়ে। এই সংঘাতে আসলে কী ঘটছে, তা জানার হাতে গোনা কিছু উপায়ের একটি হলো মাঠে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা।
আবুজাইদ জানান, “সেখানে ও অন্যান্য জায়গায় আমরা সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তৈরি ও আপলোড করা উন্মুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের দিকে চেয়ে থাকি।” তিনি বলেন, “সংঘাতের দৃশ্যধারণের কিছু নির্দিষ্ট কৌশল আছে। যেমন; সিরিয়ায় বিক্ষোভ চলাকালে ধারণকৃত ভিডিওতে কারো চেহারা অস্পষ্ট করে দেয়া, যেন তার জীবন হুমকির মুখে না পড়ে; আর দৃশ্যধারণের তারিখ ও অবস্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা।”
প্রমাণ মেলানো
এফএ-এর বেশিরভাগ অনুসন্ধানে, গবেষকদের একটি ঘটনার বিভিন্ন দিক থেকে ধারণকৃত এবং বিভিন্ন সোর্স থেকে পাওয়া ফুটেজ সংগ্রহ এবং সেগুলো মিলিয়ে দেখতে হয়। তাই তাদের একাধিক প্রমাণ সংগ্রহ করতে হয়। আবুজাইদ যেমনটি বলেছেন, বেশিরভাগ সময় তাদের কাজ হলো বিভিন্ন প্রমাণের ভিত্তিতে একটি ঘটনাকে পুনঃনির্মাণের চেষ্টা করা।
হয়তো ডেটা নেই, সামাজিক মাধ্যমের টাইমলাইনে কিছু পাওয়া যাচ্ছে না – এমন নানা কারণে কোনো ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের প্রমাণ হয়তো কেউ নথিবদ্ধই করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে তারা অনেক সময় বিকল্প সোর্সের শরণাপন্ন হন, যা ঘটেছিল গাজার উপকূলে প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের ওপর ইজরায়েলি বোমা হামলার প্রভাব নিয়ে অনুসন্ধানে।
তিনি বলেন, “গবেষণাটির বিষয় ছিল ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া একটি প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট, তাই আমরা ডিজিটাল পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে ভার্চুয়াল উপায়ে গবেষণাটি করেছি।” তিনি আরও বলেন, “এই গবেষণার মাধ্যমে আমরা প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটের আবিষ্কৃত অংশ ও চাপা পড়া ধ্বংসাবশেষের অবস্থানের একটি নির্ভুল মডেল তৈরি করেছি৷ স্থাপনাটি নিয়ে ফিলিস্তিনি ও ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিকদের আগের নথিপত্রের ওপর ভরসা রেখেছি এবং তাদের তোলা ছবি সেই মডেলে বসিয়েছি। ২০১২, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২১ সালে ইজরায়েলি বোমা হামলায় এই স্থাপনার ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোও আমরা শনাক্ত করেছি। তাই বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা এবং সাংস্কৃতিক স্থাপত্য ধ্বংসের বহুস্তরবিশিষ্ট প্রমাণ উঠে আসে এই অনুসন্ধানে।”
অন্য অনুসন্ধানেও একই ঘটনার দুটি ভিডিও পাওয়া যেতে পারে, যেখানে ভিন্ন দিক থেকে ধারণকৃত দৃশ্যে ভিন্ন অডিও আসতে পারে। এক্ষেত্রে অনুসন্ধানকারীরা পরিপূরক সাক্ষ্যপ্রমাণ পেতে প্রকল্পটিকে এক রকম ধাঁধা হিসেবে নিয়ে থাকে, যেখানে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হতে রিপোর্টারেরা টুকরো টুকরো বিষয়গুলোকে জোড়া লাগান। তারপর তারা রেকর্ডিং দুটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে।
এমনকি দুটি সোর্সে পুরো স্টোরির বিস্তারিত উঠে না এলে গল্পকে সমৃদ্ধ করতে বা পটভূমি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে সেকেন্ডারি সোর্সগুলো কাজে আসতে পারে।

ওমর ফেরওয়াতি। ছবি: ফরেনসিক আর্কিটেকচারের সৌজন্যে
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এফএ দল যখন তুরস্ক-গ্রিস সীমান্তে সিরিয় অভিবাসী মোহাম্মদ আল-আরাবের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান করেছিল, তখন গ্রিস সরকার গোলাবারুদ ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেছিল এবং জানানো হয়েছিল যে তাকে ভিন্ন স্থানে ও ভিন্ন সময়ে হত্যা করা হয়। এক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণকৃত ভিডিও মূল প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছে। গবেষকেরা অনলাইনে দৃশ্যমান ভিডিও থেকে হত্যার সময়, অবস্থান ও ঘটনার বিবরণসহ সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন।
এফএ গবেষকেরা ভিডিওতে ঘটনাস্থলের দৃশ্যমান সূত্রের খোঁজ করেছেন, যেমন বিদ্যুতের খুঁটি বা আশেপাশের কোনো নদী তীরের শনাক্তকরণ চিহ্ন। এরপর তারা সীমান্তের একটি বড় এলাকাজুড়ে স্যাটেলাইট মানচিত্রে এই চিহ্নগুলোর খোঁজ করেছেন, যতক্ষণ না মিল পাওয়া যায়।
অনুসন্ধানমূলক ভিডিও বিশ্লেষণে ফেরওয়াতি রিপোর্টারদের প্রতি মুহূর্তের ফুটেজ বিশ্লেষণের পরামর্শ দেন, ফুটেজে দৃশ্যমান কোন উপাদানগুলো চলমান বা স্থির এবং পরিস্থিতি কীভাবে বদলে যায়, তা দেখতে ফুটেজের রিলগুলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করার পরামর্শ দেন৷
ফেরওয়াতি জানান, “আপনি যে ভিডিও বা ছবি খুঁটিয়ে দেখতে চান, সেটির খুঁটিনাটি বিবরণ পর্যবেক্ষণে পর্যাপ্ত সময় দেয়া উচিত। আহমেদ এরেকাত [একটি চেকপয়েন্টে নিহত ফিলিস্তিনি] হত্যাকাণ্ডে, প্রথমবারের মতো ভিডিওটি দেখে কেউ বুঝতে পারেনি যে কী ঘটেছে। ক্লিপটি ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হলে এবং সময় ধরে ধরে দেখে বোঝা যায়, প্রতিটি শটেই ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছিল।”
অস্ত্রের গতিবিধি অনুসরণ
ফরেনসিক আর্কিটেকচার সিরিয়ায় বোমা বিস্ফোরণ, ব্যাপক হতাহতের ঘটনা এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ও রাসায়নিক অস্ত্রের ধরন নিয়ে বেশ কয়েকটি অনুসন্ধানে যুক্ত ছিল।
এ বিষয়ে এফএ যে অনুসন্ধানগুলোতে কাজ করেছে, সেগুলোর মধ্যে সিরিয়ার আল লাতামিনাহ শহরে রাসায়নিক হামলা, দামেস্কের গ্রামাঞ্চলের দোমা শহরে একই ধরনের হামলা এবং ইদলিবের একটি হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা নিয়ে প্রতিবেদন উল্লেখযোগ্য।

সিরিয়ার শহর আল লাতামিনাহতে রাসায়নিক হামলা নিয়ে অনুসন্ধানে এফএ প্রকৃত সমরাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের ছবির ভিত্তিতে এম৪০০০ বোমার একটি ডিজিটাল মডেল বানিয়েছে। ছবি: ফরেনসিক আর্কিটেকচার
ফেরওয়াতি ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত জোটের ব্যবহৃত ইউরোপীয় অস্ত্র নিয়ে অনুসন্ধানেও কাজ করেছেন।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “বিভিন্ন ধরনের গবেষণা জড়ো করতে ইয়েমেনে আমরা একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছি। জিওলোকেশনের মাধ্যমে সৌদি-আমিরাত নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে মাঠপর্যায়ের মানুষদের যেসব গবেষণা, সেগুলো। সৌদি বা আমিরাতের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা এবং এই যুদ্ধাপরাধের সময়ক্রম ও স্কুল, হাসপাতাল, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সংঘটিত সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের মধ্যকার যোগসূত্র বোঝার কাজও চলছে ইউরোপে।”
ফেরওয়াতি এফএ, ইয়েমেনি আর্কাইভ, বেলিংক্যাট ও ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস এর সমন্বয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বিস্তারিত বলেন। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইউরোপীয় দেশগুলোর অস্ত্র রপ্তানির তারিখ আর অস্ত্রের আগমন ও বোমা হামলার সময়ের যোগসূত্র- সবই আছে এই প্ল্যাটফর্মে।
তিনি বলেন, “অস্ত্র তৈরির তারিখ যাচাই না করে আমরা সেগুলোর ব্যবহার ও উদ্দেশ্য জানতে পারি না। ইয়েমেনে অপরাধ ও অস্ত্র রপ্তানির ইতিহাসের মধ্যকার যোগসূত্র উন্মোচন করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। অস্ত্রগুলো তৈরির সময় জানতে পারলে আমরা তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পারব।”
ওপেন সোর্স-নির্ভর গবেষণা, ভিজ্যুয়াল সাক্ষ্যপ্রমাণ মেলানো আর জ্যামিতিক উপস্থাপনা ব্যবহার করে ফরেনসিক আর্কিটেকচার আরব বিশ্বের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি ও ঘটনা সফলভাবে বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করেছে।
ওমর ফেরওয়াতি তাদের কর্মকৌশল ব্যাখ্যা করেন এভাবে: “প্রত্যেকটি স্টোরির জন্যই আমাদের স্বতন্ত্র কৌশল থাকে। আমরা সবসময় একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি: আমরা কী খুঁজছি, আর কী সাক্ষ্যপ্রমাণ আছে? এরপর আমরা তা অনুসন্ধানের জন্য ঘটনার অজানা বিষয়গুলোর দিকে নজর দিই।”
এই স্টোরি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিয়ে ধারাবাহিকের শেষ পর্ব।
আরও পড়ুন
হাও ফরেনসিক আর্কিটেকচার সাপোর্টস জার্নালিস্টস উইথ কমপ্লেক্স ইনভেস্টিগেটিভ টেকনিকস
ইয়েমেনের যুদ্ধাপরাধ উন্মোচন থেকে বিশ্বের যা শেখার আছে
অ্যামেচার ওপেন সোর্স রিসার্চার্স গো ভাইরাল আনপ্যাকিং দ্য ওয়ার ইন ইউক্রেন
আহমাদ হাজ হামদু একজন সিরীয় সাংবাদিক। তিনি দামাস্কাস ইউনিভার্সিটি থেকে গণমাধ্যম বিষয়ে স্নাতক করেছেন। আরব রিপোর্টার্স ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম, দারাজ, গার্ডিয়ান এবং অন্যান্য গণমাধ্যমে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি জিআইজেএনের সদস্য সংগঠন সিরিয়ান ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং ফর অ্যাকাউন্টেবিলিটি জার্নালিজমের (সিরাজ) সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সংগঠনটি মূলত সিরীয় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।